কবে বন্ধ হবে শিশুশ্রম?

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩০

আজকের শিশুরা আগামী দিনের কর্ণধার, অন্ধকারে আবদ্ধ জাতিকে তারা দিবে আলোর প্রদীপ উপহার। এসব নীতি-কথা যেন লেখকের ছন্দ বা শব্দ, বক্তার মুখেই সীমাবদ্ধ থাকে। যে শিশুগুলো একদিন এই দেশ পরিচালনা করবে, যারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাবলম্বী সোনার বাংলাদেশ গড়বে, পুরো জাতির আশা, স্বপ্ন, বিশ্বাস যাদের উপর আজ তারাই কিনা কোনো কারণে অসহায় হয়ে পড়লে তার নিজের শ্রম বিনিময় ছাড়া অন্য উপায় থাকে না। এরা অতিদরিদ্র গরিব পরিবারের সন্তান। সর্বজনীন শিক্ষা বা বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। গরিব পরিবারের অভিভাবকরা এক সময় বাধ্য হয়েই অন্ন সংস্থানের তাগিদে শিশুদের পাঠায় কাজ করতে। শিশুশ্রমের একক কেনো কারণ নেই, এর একাধিক কারণ রয়েছে। গুণিজনরা বলেন, এর প্রধান কারণ দারিদ্র্য।

আর এই দারিদ্র্যের কারণে শিশুরা নিজের শ্রম বিক্রি করে জীবনধারণ করছে। দেশ ও জাতিকে তারা অভিশাপ দিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলছে তীব্রগতিতে। যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আজ তারা তাদের প্রাপ্য অধিকারটুকু পাচ্ছে না। আমরা জানি, মানুষের মৌলিক অধিকার পাঁচটি। আমরা যদি ওদের মৌলিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিত্সা, শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারি তাহলে আমরা জাতি হিসাবে যা চাই তা পাওয়াটা বোধ করি খুব কঠিন হবে না। বর্তমান সরকারের আমলে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। এই উন্নয়নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারের সদিচ্ছা  ও বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার এক কঠোর সংকল্প। যা আমাদের জাতির জন্য সুখবর ও আনন্দের। তবে শিশু শ্রম রোধে আমরা অনেক পিছিয়েই রয়েছি। গুণিজনরা বলেন, শিশুশ্রম হলো সামাজিক শোষণের দীর্ঘস্থায়ী এক হাতিয়ার। যেকোনো দেশে শিশুশ্রমকে দেশে উন্নয়নে কতটা পিছিয়ে দেয় তার নির্দেশক হিসেবে ধরা হয়। সরকার ইউনিসেফসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন আপোষহীনভাবে কাজ করছে শিশুশ্রম রোধে। তবুও রোধ করা যাচ্ছে না শিশুশ্রম, শিশু নির্যাতন, শোষণ ইত্যাদি। শিশুদের অধিকার, শিশুদের নির্যাতন, তথা শিশুদের খারাপ কাজ থেকে  রক্ষা করা বা সুন্দরভাবে বেড়ে উঠার জন্য, অবহেলা রোধ করার জন্য, শিশু উন্নয়নের জন্য অসংখ্য আইন করেছেন সরকার। কিন্তু সমস্যা একটাই প্রয়োগের। আমি মনে করি, এই ভবিষ্যত্ প্রবক্তাদের চোখে-মুখে যদি আমরা আলোর রেণু এঁকে দিতে চাই তাহলে সবার আগে তাদের উপযোগী পৃথিবী আমাদের গড়ে দিতে হবে। তাদের বেড়ে উঠতে দিতে হবে অনুকূল পরিবেশ। শিশুশ্রম রোধে কেবল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সরকারের পক্ষে এককভাবে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়, পেশাজীবী সুশীল সমাজ, নীতি-নির্ধারক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ সবার সম্মিলিত প্রয়াসই পারে আজকে অবহেলিত শিশুদের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে অনুকূল পরিবেশে আনতে।

n  লেখক :শিক্ষাথী, আব্দুল মান্নান বালিকা বিদ্যালয়

এন্ড কলেজ, সোনাতলা, বগুড়া।