ফুলবাড়িতে কৃষি জমিতে ইটভাটা!

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৫

ফুলবাড়িতে তিন ফসলি জমি ও বসতবাড়ির সামনে গড়ে ওঠেছে ইটভাটা। ফসলি জমির উপরিভাগের  (টপ সয়েল) মাটি কেটে তৈরি হচ্ছে কাঁচা ইট।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৪নং বেতদীঘি ইউনিয়নের নথন গ্রামের সড়কের পশ্চিম পার্শ্বের তিন ফসলি জমির ওপর পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জের চকদলু গ্রামে একটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কয়লা পাশাপাশি কাঠের লাকড়িসহ প্লাস্টিক। নথন গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ফসলি জমির ওপর ইটভাটা নির্মাণ করা হয়েছে। ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ও গন্ধে গ্রামে থাকাই মুশকিল হয়ে গেছে। চিমনির ছাই গ্রামে এসে পড়ায় গাছপালা, ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি ছাইয়ে ঢেকে যাচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে গ্রামবাসী শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবেন। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে গত ১৮ নভেম্বর তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

ভাটার এক ব্যবসায়িক অংশীদার বলেন, বাত্সরিক চুক্তিতে স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি ইজারা নিয়ে ইটভাটা নির্মাণ করা হয়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর তারিখে ভাটায় আগুন দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের ইট বের করার প্রস্তুতি চলছে। ভাটার আগুনের তাপ বাড়াতে কয়লার সাথে কাঠের লাকড়ি ও প্লাস্টিক পোড়ানো হচ্ছে। বেতদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মোঃ আব্দুল কুদ্দুস জানান, ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি বা উঠিয়ে দেওয়া— এর কোনোটির সাথেই আমাদের সংশ্লিষ্টতা থাকে না। এর বাইরে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, ফসলি জমির ওপর অবৈধভাবে ইটভাটা নির্মাণ করে ইট পোড়ানোর বিষয়ে নথন এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে অভিযোগটি তদন্তের জন্য বন বিভাগের ফরেস্টারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর সরেজমিনে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।