৯ মাসে মেয়র আতিকের কাছ থেকে কি পেলো ঢাকা?

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:২৬

মাত্র ৯ মাস ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দায়িত্ব পালন করেছেন সদ্য পদত্যাগ করা মেয়র আতিকুল ইসলাম। এই স্বল্প সময়ে চেষ্টা করেছেন বেশ কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার। কিছু আনা সম্ভব হয়েছে। কিছুর কাজ চলছে এবং পরিকল্পনায় ছিলো আরো অনেক কিছু।

মেয়র আতিকুল জানান, অনেক কিছুই ছিলো পরিকল্পনায়। আশা করছি সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু কি ধরণের পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন তিনি?

বিগত ৯ মাসে তার অধীনে থাকা সিটি করপোরেশনে সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো ডেঙ্গু মুকাবিলা করা। মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাস পরেই এ সমস্যা সমাধানে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হয় তাকে। আর এর অংশ হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে ফগ মেশিন ক্রয়, মশা মারার জন্য ওষুধ ক্রয় থেকে শুরু করে বেশ কিছু কাজ করতে হয়েছে তাকে। এ সময় দুটি গাড়ি চালিত মশক নিধন মেশিন ও ১০টি মোটর সাইকেল ফগিং মেশিনের জন্য প্রস্তুতের পাশাপাশি প্রায় ১ হাজারের বেশি মেশিন ক্রয় করা হয়। অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেয়া হয় ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট কর্ম পরিকল্পনা যাতে মারা যাবে এডিস ও ফিলিক্স জাতীয় মশা। চলতি বছরে রাজধানীর মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।

সড়কে শৃঙ্খলা আনতে গত নয় মাসে আবরার আহম্মেদ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, প্রতিবন্ধীদের কথা বিবেচনা করে ব্রিজে এস্কেলেটর স্থাপনসহ আরো বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি আগারগাঁও হতে ১০কিলোমিটার সড়কে সাইকেল লেন নির্মাণ। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সড়কে পৃথক সাইকেল লেন স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি  কার্যক্রম দেশে প্রথমবারের মত পথচারীদের জন্য স্বয়ংক্রিয় পুশবাটন ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছে মোহাম্মদপুরের গ্রীন হেরাল্ড স্কুলের সামনে। আরো ২০(বিশ) টি স্থানে পুশবাটন স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আরো স্থাপন কার্যক্রম চলছে পার্কিংয়ের জন্য মার্কিং, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রতিবন্ধীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ভবনে র‌্যাম্প তৈরি, ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখতে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে গতি আনাসহ আরো বেশ কিছু কার্যক্রম।

সড়ককে নিরাপদ রাখতে চলছ এলইডি বাতি স্থাপনের কার্যক্রম।

ব্যস্ত শহর ঢাকায় মানুষকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে সাপ্তাহিক বা মাসের নির্দিষ্ট দিনে বিভিন্ন সড়কে গাড়ী মুক্ত সড়ক ঘোষণার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে তা বাস্তবায়নও করা হয়েছে। এ ছাড়াও দৃষ্টিনন্দন করে নির্মাণ করা হয়েছে ৪টি পার্ক ও ১৬টি পাবলিক টয়লেট। পরিকল্পনায় রয়েছে আরো ২২টি পার্ক, ৪টি খেলার মাঠ উন্নয়ন এবং ৭৩টি স্বাস্থ্যকর পাবলিক টয়লেট নির্মাণের। পৃথকভাবে ৪টি কবরস্থানের উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শহর আধুনিকায়ন ও সবুজায়ন এ সকল প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২৭৯.৫০ কোটি টাকার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে ২০২০ সালের জুন মাসে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সদ্য পদত্যাগ করা মেয়র আতিকুল ইসলামের কাছে তার ৯মাসের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে চেষ্টা করেছি অনেকগুলো বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের। সেই সঙ্গে যখন যে কাজ দ্রুত করে ফেলা দরকার তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার চেষ্টা করেছি। এত অল্প সময়ে আমার সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বা তার ফল পাওয়াও সম্ভব নয়। কিন্তু আমি বলতে পারি, প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম শেষ হলে দারুণ সুফলতা পাবে ঢাকার মানুষ। বিশেষত খেলার মাঠ ও পার্কগুলো নির্মাণের মাধ্যমে মানুষ অবসর সময় কাটানোর সুযোগ পাবে যার যথেষ্ট অভাব রয়েছে ঢাকা শহরে।

সড়কে তীব্র যানজট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা উত্তর সিটি করপোরেশনে বেশ কিছু ইউলুপ নির্মাণ কাজ শেষ করেছি। পরিকল্পনা অনুসারে আরো ১১টি ইউটার্ন নির্মাণের কাজ করছে সিটি করপোরেশন। এতে সড়কে যানজট কিছুটা হ্রাস পাবে। এ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ফুটপাথগুলো পুনর্নির্মাণ এবং ফুটপাথ আরো প্রশস্ত করার কাজ চলছে। খুব কম সময়ে এতগুলো কাজ শুরু করা হয়েছে, যার ফল পেতে আরো ৬ মাস সময় লাগবে। আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি স্বপ্নের শহর ঢাকা বিনির্মাণে। আশা করছি ভবিষ্যতে এ সুযোগ পেলে তা পূর্ণ রূপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

ইত্তেফাক/আরএ