জেএনইউতে মুখোশধারীদের হামলা, ভারত জুড়ে ক্ষোভ

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৪২

বিজেপি-সমর্থিত ছাত্র সংগঠনকে দায়ী করেছেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

দিল্লির জহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটিতে (জেএনইউ) মুখোশ পরে লোহার রড, হাতুড়ি ও পাথর নিয়ে হামলা চালিয়েছে একদল যুবক। রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষ ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার জন্য বিজেপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন অখিল ভারত বিদ্যার্থী পরিষদকে (এবিভিপি) দায়ী করেছেন জেএনইউর শিক্ষার্থীরা।

ভারতের রাজধানীর নামি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ দীর্ঘদিন ধরেই বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিজেপি সরকারের নানা সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এনআরসি নিয়ে মোদি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও নেমেছিল নেহেরু ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। হস্টেল ফি বৃদ্ধি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছিল, ধর্মঘটও ডেকেছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। রবিবার সন্ধ্যায় ধর্মঘট আহ্বানকারী বাম সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিকালে এবিভিপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি হয়েছিল। সন্ধ্যার পর অর্ধশত মুখোশধারী ক্যাম্পাসে ঢুকে চালায় হামলা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আহত ৩৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলায় রক্তাক্ত ঐশী ঘোষের ছবি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা বলেছেন, প্রশাসন ও পুলিশের মদতে এবিভিপি কর্মীরাই এই হামলা চালিয়েছে। ছাত্র সংসদের সহসভাপতি সাকেত মুন বলেন, হামলাকারীরা এবিভিপিরই, তাদের অনেকে এখানকার শিক্ষার্থীও নয়। আর তারা যখন ভাঙচুর করছিল, তখন ক্যাম্পাসে থাকা পুলিশ সদস্যরা ও বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীরা নিশ্চুপ দাঁড়িয়েছিল।’ তবে এবিভিপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠনটি উলটো বলেছে, বাম ছাত্র সংগঠনগুলোই হোস্টেলে এবিভিপির ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে। তাতে ১১ জন আহত হয়েছে। মুখোশ পরা কয়েক জন হামলাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে নেহেরু ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ডাকা হয়েছে জানিয়ে হামলাকারীদের ধরার আশ্বাসও দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার প্রমোদ কুমার। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার

হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের বিভিন্ন শহরের হাজার হাজার শিক্ষার্থী জেএনইউয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে রাতভর প্রতিবাদ জানায় ও মোমবাতি মিছিল করে। এই হামলা ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। আহতদের দেখতে রাতেই হাসপাতালে উপস্থিত হন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি বিজেপি সরকারকে দায়ী করে বলেন, নইলে পুলিশের নাকের ডগায় এই ঘটনা ঘটতে পারত না। সিপিআই, সিপিএমসহ অন্য দলের নেতারা বিজেপিকেই দায়ী করে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।