ধর্ষকের বিচারের দাবিতে অনশনে ঢাবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:৫৫

কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে দর্শনের ঘটনা শোনার পর অনশনে বসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩-১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাত ইসলাম (দর্শন বিভাগ)। এর পর অনশনে বসেন একই ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ডাকসুর সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল (মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ), মোস্তাফিজুর রহমান নাফিজ (তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট)। পরে রাত ১০টায় তাদের সাথে যোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ১৬-১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে চার দফা দাবিতে অনশনে বসেছেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই অনশন চলবে বলেও জানান তারা।

চার দফা দাবি হচ্ছে- অবিলম্বে ধর্ষককে গ্রেফতার করতে হবে, সংশ্লিষ্ট ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে, ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।

অনশনের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান নাফিজ বলেন, ধর্ষণের ঘটনার পর দীর্ঘ ১ দিন পার হয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো তাদের শনাক্ত করতে পারেনি। অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে এই অনশন কর্মসূচি। 

তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনা নতুন কিছু না। দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে উৎসাহিত হচ্ছে। 

এদিকে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার পরে ফুঁসে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দল-মত নির্বিশেষে ঢাবির সকল শিক্ষার্থী ধর্ষণের বিচারের দাবিতে আন্দোলনে যুক্ত হয়। 

ধর্ষণের ঘটনায় গতকাল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিবাদে যোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। দুপুর একটার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বড়ো মিছিল বের করেন। বেলা ১১টায় টিএসসি থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে দুপুর ২টায় অবরোধ তুলে নেয়। এদিকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় ধর্ষণের বিচারসহ বেশ কিছু দাবি নিয়ে রবিবার রাত থেকে অনশন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সিফাতুল ইসলাম। গতকাল সকালে তার সঙ্গে যোগ দেন সাইফুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান নামে আরো দুই শিক্ষার্থী।

ছাত্রলীগের বিক্ষোভ: ছাত্রলীগ বেলা ১১টা থেকে টিএসসি এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

কুর্মিটোলায় বিক্ষোভ: বেলা সাড়ে তিনটায় অপরাধীদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঘটনাস্থলের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বাসে করে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মানববন্ধন করেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে রাস্তায় শুয়ে পড়েন।

উপাচার্যের আশ্বাস: এদিকে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পাশে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, মেয়েটির পাশে দাঁড়ানো আমাদের প্রথম দায়িত্ব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছে। ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয়, দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা মর্মাহত।

ইত্তেফাক/এমআর