ইশতেহারে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নেই অঙ্গীকার

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:২৬

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কোনো পদক্ষেপ, নীতি বা পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদে নারীর ফলপ্রসূ সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে ইশতেহারে তার কোনো উল্লেখ নেই। এ ক্ষেত্রে নারী সমাজের দীর্ঘ দিনের দাবি এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রতি ‘জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু করা এবং আসন সংখ্যা এক তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি করা’ এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

শুধু তাই নয় মহিলা পরিষদ মনে করে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ২০০৮ এর ৯০নং অনুচ্ছেদ বাস্তবায়ন অর্থাত্ সকল রাজনৈতিক দলের কমিটিগুলোতে এক- তৃতীয়াংশ নারীর অন্তর্ভুক্তি করা এবং সাধারণ আসনেও অধিক সংখ্যক নারী প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে  কোনো রাজনৈতিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় সংগঠনটি। সেগুনবাগিচাস্থ সুফিয়া কামাল ভবনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম। সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভারপ্রাপ্ত আন্দোলন সম্পাদক রেখা চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের এডভোকেসি এন্ড লবি পরিচালক জনা গোস্বামী।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আয়শা খানম বলেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন এবং এক তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি যা আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের ১২নং অনুচ্ছেদে ছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালের ৮ মার্চ নারী দিবসেও ঘোষণা দেন। কিন্তু এর জন্য কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।

তিনি জানান, মহিলা পরিষদ ৪০ বছর ধরে রাজনৈতিক কৌশলের নামে কোনোক্রমেই রাজাকার, জামায়াত, যুদ্ধাপরাধী, স্বৈরাচার, ঋণখেলাপি, নারী নির্যাতনকারী, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, গডফাদারদের সাথে কোনো প্রকার ঐক্য গড়ে না তোলা, তাদের মনোনয়ন দানে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণগুলো এমন উগ্রভাবে, নীতিহীনভাবে হচ্ছে তা দুঃখজনক। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার না করার জন্য বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে। কিন্তু দেখি রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নানাভাবে, নানা ভাষায়, নানা ব্যাখ্যায়, নানা পদ্ধতিতে  করা হচ্ছে। সেখানে কোনো ভেদাভেদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাহার আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ  এবং  সীমা মোসলেম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, প্রকাশনা সম্পাদক সারাবান তহুরা সহ কেন্দ্রীয়  সম্পাদক ও সদস্যবৃন্দ।