উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন কার না থাকে। ভর্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথম দিন ক্লাস করার অনুভূতিটা একজন শিক্ষার্থীর জীবনে অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকে। নতুন সহপাঠীদের সঙ্গে প্রথম পরিচয় আর সেইসঙ্গে পড়াশোনার সম্পূর্ণ নতুন এক গতিতে প্রবেশ করার আনন্দে শিক্ষার্থীদের মন অন্যরকম ভালোলাগায় ভরে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ সেশনে নতুন শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ছোঁয়ার অনুভূতি নিয়ে লিখছেন— আহসান জোবায়ের
হূদয় কাড়া একটি দিন
এতটা বছর পেরিয়ে জীবনের কাঙ্খিত দরজা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখলাম। প্রথম থেকেই মা-বাবার ইচ্ছে ছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব আমি। অনেক পথ পাড়ি দিয়ে জানুয়ারির প্রথম দিন ছিল আমার সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন ছোঁয়ার দিন। প্রথমদিন হিসেবে অনেক কৌতূহলের পাশাপাশি মনে ছিল কিঞ্চিত্ ভয়। কিন্তু সেই ভয়কে জয় করতে বেশি সময় লাগল না। আমার বিভাগীয় কার্যালয়ে গিয়ে কোন রুমে ক্লাস হবে তা জেনে নিলাম। ক্লাসে এসেই দেখলাম আমার অনেক সহপাঠী আগে থেকেই বসে আছে। অল্প সময়েই আমার কিছু বন্ধুও হলো। কিছু সময় পর বিভাগীয় বড়ো আপু-ভাইয়ারা এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-নীতি বুঝিয়ে দিলেন। তাদের আন্তরিকতায় আমি খুবই মুগ্ধ। এরপর ক্লাসে একজন ম্যাম আসলেন, তিনি আমাদের বিষয় সম্পর্কে সাধারণ ধারণা দিলেন। সহপাঠীরা মিলে ক্যাম্পাসটি ঘুরে দেখলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস, লাইব্রেরি, ক্যাফেটোরিয়াসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় স্বয়ংসম্পূর্ণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-আমার প্রিয় ক্যাম্পাস।
তাজরিয়ান শিকদার
নৃবিজ্ঞান বিভাগ
প্রথম অনুভূতি ভুলব না
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমদিন ডিপার্টমেন্টে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের পরই ক্লাস শুরু হয়। ওরিয়েন্টেশনে ইমিডিয়েট সিনিয়ররা নবাগত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি জানতে চান। তখন একে একে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে দাঁড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে স্বপ্ন এবং তা পূরণ করার প্রত্যয় ও আগামী দিনের সমৃদ্ধ পথ চলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে। ক্লাসে গিয়ে দেখি অনেক স্টুডেন্ট, কী করব, কার সঙ্গে কথা বলব বুঝতে পারছিলাম না। এভাবে অচেনা-অজানা পরিবেশে একটু ভয়ে ভয়ে নতুন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রথম দিনটি কাটে। আমার ক্লাসমেটরাই বরং আমাকে আপন করে নিয়েছে। সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস লাইফের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা অনেক ভালো হয়েছে। আমরা সবাই প্রায় পুরো বাংলাদেশ থেকেই এখানে এসেছি বলা যায়। জেনে নিচ্ছিলাম কে কোন হল, স্কুল-কলেজ থেকে এসেছে। এত বড়ো ক্যাম্পাস, এত মানুষ আর ৫ বছর আমরা একসঙ্গে থাকব।’ এভাবেই শিক্ষার্থীদের যাত্রা শুরু হয় স্বপ্নের ক্যাম্পাসে।
শরিফুল ইসলাম শ্রাবণ
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস
শেষ হয়েও হইলো না শেষ
প্রথম দিনের অভিজ্ঞতাটা ঝিল অনেকটা রবীন্দ্রনাথের ছোটো গল্পের মতো। শেষ হয়েও, হইল না শেষ। ১ লা জানুয়ারি, ২০২০, সকাল ৯.০০টা, একরাশ শঙ্কা, রোমাঞ্চ, উদ্দীপনা নিয়ে প্রবেশ করলাম আমার স্বপ্নপুরীতে। কাউকেই চিনি না বললেই চলে। ডিপার্টমেন্টে গেলাম, তারপর কয়েকজনের সাথে পরিচয় হলো, অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধুত্ব জমে উঠল। মনে হলো অনেক দিনের পরিচয়। টিচাররা আসলেন, সবার সাথে পরিচয় পর্ব শেষে, অনেক অনুপ্রেরণামূলক কথা বললেন। সবশেষে বড়ো ভাইয়া- আপুরা এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-নীতি বিষয়ে আমাদের অনেক কিছু বললেন, তাদের ব্যবহার ছিল সত্যিই বন্ধুসুলভ। সর্বোপরি, র্যাগিং নিয়ে যে ভয়টা ছিল, তা কিছুটা হলেও কমেছিল বলে মনে হয়। রবি ঠাকুরের অপরিচিতর মতো যেখানে এসে আমার অনুভূতিটি অফুরান হয়ে রইল, সব কিছু শেষে এত ক্লান্ত ছিলাম যে, ক্যাম্পাসটাই ভালো করে দেখা হলো না। যা হোক, সব মিলিয়ে দিনটি ছিল স্বপ্নময়। দিনশেষে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে বাসায় ফিরলাম।
জান্নাতুল ফেরদৌস বিন্তী
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
