জুঁই জেসমিনের স্বপ্ন উদ্যোগ

ঘরে ঘরে জাতীয় পতাকা উড়ছে

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৪৪

  আ হ ম ফয়সল

 

আর ভিন দেশি পতাকা দেশের আকাশে নয়, এবার ঘরে ঘরে উড়ছে বাংলার লাল-সবুজের পতাকা। দেশের জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান আর শ্রদ্ধা ভরে লাখো শহিদদের স্মরণ করতে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে জাতীয় পতাকা। বিজয় দিবসে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি ঘরে ঘরে উড়ানো হয় লাল-সবুজের এই পতাকা। স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস ও নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেন ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মানবাধিকার কর্মী ও লেখক জুঁই জেসমিন।

শিক্ষা সৈনিক মরহুম তসলিম উদ্দিন আহমেদের মেয়ে জুঁই জেসমিন পিতার মতোই উদ্যোগী। নিজ গ্রাম রায়মহলে তার বাবা প্রতিষ্ঠা করেন রায়মহল উচ্চ বিদ্যালয়। তাই বাবার আদর্শে দেশপ্রেমে জাগ্রত হয়ে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঘরে ঘরে পতাকা পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন এবং গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধাকে উদ্বুদ্ধ করেন ঘরে ঘরে পতাকা দিতে। পাঁচ উপজেলার বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা তার ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে এগিয়ে আসেন নিজ নিজ খরচে পতাকা বিতরণে। পঞ্চগড় জেলা সদর হতে নারী মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া বেগমও এগিয়ে আসেন।

আর এবারের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে তার এই কাজে সার্বিক সহায়তা করেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, বালিয়াডাঙ্গী, রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলায় ৪ হাজার ৫০০ পরিবারের মাঝে জাতীয় পতাকা বিতরণের উদ্যোগ সফল হয়। পার্শবর্তী পঞ্চগড় জেলা সদর উপজেলাতেও তার উদ্যোগটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে স্থানীয় প্রশাসন।

জুঁই জেসমিনের আয়োজনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ১৬ ডিসেম্বরের কয়েক দিন আগে থেকেই সদর উপজেলার জলেশ্বরীতলা এলাকায় ঘরে ঘরে জাতীয় পতাকা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন—ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম। সে সময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন, প্রেসক্লাব সভাপতি মনসুর আলী, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি সেতারা বেগম উপস্থিত ছিলেন।