নাজিয়া জাবীনের স্পর্শ ব্রেইল

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৪৫

  মাহবুব নাহিদ

 

যাদের চোখের দৃষ্টি নেই তাদের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী না বলে তিনি বলেন দৃষ্টিজয়ী। আর এই দৃষ্টিজয়ীদের নিয়ে তার মহত্ চিন্তার দারুণ বহিঃপ্রকাশ সকলের হূদয় কেড়ে নেবে নিঃসন্দেহে। দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন শিশুতোষ লেখিকা নাজিয়া জাবীন। তিনি ২০০২ সালে যখন একটি বই প্রকাশ করেন তখন দৃষ্টিজয়ী অনেক শিশু আসে। কিন্তু তারা তো বই পড়তে পারে না, তাই তাদের বই পড়ার সুযোগ করে দিতেই একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন নাজিয়া জাবীন। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা। যার মাধ্যমে প্রকাশ করতে শুরু করেন ব্রেইল বই। ব্রেইল পদ্ধতি হচ্ছে স্পর্শের মাধ্যমে বই পড়ার ব্যবস্থা যা লুই ব্রেইল ২০০ বছর আগে আবিষ্কার করেন।

নাজিয়ার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠিতে। বড়ো হয়েছেন ঢাকায়। গার্হস্থ্য অর্থনীতি মহাবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। চন্ডিগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেছেন ইয়ুথ লিডারশিপ ট্রেনিং। বাবা সৈয়দ মাসুদ আলী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সাইন্সের শিক্ষক। মা নুরুন্নাহার ফয়জুন্নেসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই ই আর এর শিক্ষক ও বেগম রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ছিলেন। তিনি ছায়ানীড় নামে ঢাবিতে প্রথম শিশু যত্নকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা। তার স্বামী ড. ফারহাত আনোয়ারও ঢাবির শিক্ষক। বোন সাদিয়া আফরিন মল্লিক একজন দেশসেরা নজরুল গীতি শিল্পী ও সাংবাদিক।

২০০৯ সালে তিনি ব্রেইল পদ্ধতিতে তারই বই ছড়ার তালে মনটা দোলে প্রকাশ করেন। বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠানের ৬৮টি ব্রেইল বই রয়েছে। শিক্ষামূলক বইয়ের পাশাপাশি তারা চিত্তবিনোদনের বিষয়েও খেয়াল দিয়ে থাকেন। এজন্যই নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, হুমায়ূন আহমেদসহ নানা ধরনের বই রয়েছে তাদের।

নাজিয়া জাবীন আশা রাখেন দেশে আরো ব্রেইল প্রকাশনা গড়ে উঠবে। ঢাকা শহরে অন্তত একটি ব্রেইল লাইব্রেরি তৈরি করা হবে। দেশের প্রত্যেকটি মানুষ দৃষ্টিজয়ীদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ করবে যাতে দৃষ্টিজয়ীরা নিজেদের একা মনে না করে। তারা যেন আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে এমন প্রত্যাশা নাজিয়া জাবীনের।