বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের ওপর এত নির্যাতনের পরও বলতে পারেন আমরা কীভাবে টিকে আছি? টিকে আছি শুধু মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনে। যেখানে যাচ্ছি মানুষ ছুটে আসছে, মানুষের ভালোবাসার শক্তির ওপর টিকে আছি। আমরা চেষ্টা করছি জনগণকে জাগিয়ে তুলতে। কারণ এ রাষ্ট্র জনগণের। জনগণকে সব অন্যায়, অবিচার, অত্যাচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে হবে। নিজেদের অধিকার আদায় করতে হবে। বিশ্বাস করি এ লড়াইয়ে আমরা জয়ী হব। কারণ মানুষের কথা, তাদের চোখে যে বিশ্বাস দেখেছি, তাতে আমাদের বিজয় আসবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পেশাজীবী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যা করবেন, তা আগেই বলে দেন। প্রধানমন্ত্রী বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচনের ব্যালট পেপার ছাপানোর কথা বলছেন, সেটি আওয়ামী লীগের কাজ। আপনাদের সেই ক্ষমতা আছে, সেটা করবেন। ব্যালট ছাপাবেন, আর সে কথা আগাম বলে দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের শেষ নেই। এরমধ্যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব জানি না। আমরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের কথা তো আগেই বলেছি। নির্বাচন কমিশন ঠুঁটো জগন্নাথ। তাদের কোনো ক্ষমতা নেই। দুইদিন আগেও আমরা গিয়েছি, ইসি কোনো কথার উত্তর দেয়নি।
আগামী নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হবে আমরা কি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে থাকব, নাকি একনায়কের দেশে থাকব। আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, কথা বলার অধিকার থাকবে কি থাকবে না, তা এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ হবে।
ফখরুল দাবি করেন, খালেদা জিয়া করাগারে যাওয়ার আগে বলে গেছেন জাতীয় ঐক্য গঠন করতে। সব রাজনৈতিক দল, মত, ধর্ম, বর্ণের মানুষদের নিয়ে ঐক্য করতে। বিএনপি খালেদা জিয়ার কথা পালন করেছে, জাতীয় ঐক্য গঠন করেছে, নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন, যতই ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার উঠছে, ততই সরকার নতুন নতুন চক্রান্ত করছে। সংলাপে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, তফসিল ঘোষণার পর আর কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। কিন্তু তিনি তার কথা রাখেননি।
