দেশের তরুণ শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে ভীমপলশ্রী রাগ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো দুদিনের শুদ্ধ সঙ্গীত উত্সব। ছায়ানটের আয়োজনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শুদ্ধ সঙ্গীতের শিল্পী ও ওস্তাদরা এসে জড়ো হয়েছেন ঢাকায়। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত হচ্ছে সঙ্গীতের প্রাণ। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ভিত্তি মজবুত না হলে কোন শিল্পীই প্রকৃত শিল্পী হয়ে উঠতে পারে না। সেই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সুর ও কণ্ঠের মাধুর্য উপভোগ করলেন দর্শকরা। ছায়ানট আয়োজিত দুদিনব্যাপী শুদ্ধ সঙ্গীত উত্সবের উদ্বোধনী পর্বে শিল্পীদের পরিবেশনায় শ্রোতারা আপ্লুত হলেন সুরের ধারায়। দেশে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পীদের পরিবেশনার তেমন সুযোগ নেই। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যেই ছায়ানট নিয়মিতভাবে প্রতিবছর আয়োজন করে চলেছে এ উত্সবের।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছায়ানটের প্রধান মিলনায়তনে শুদ্ধ সঙ্গীতের একাদশ আসরের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের বরেণ্য শিল্পী মিহির লালা। স্বাগত ভাষণ দেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা।
যখন শুদ্ধ সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ তরুণদের মাঝে কমে এসেছিল ছায়ানট সেই ধারাকে বেগবান করতে সবসময় শুদ্ধ সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ চর্চা অব্যাহত রেখেছে। প্রায় এক যুগ ধরে তারা সারাদেশের শিল্পীদের নিয়ে আয়োজন করছে এ উত্সব। তিনটি অধিবেশনে সাজানো এ উত্সবে ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট জেলার শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন।
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। প্রথম দিনের এ উত্সব সাজানো হয় ঢাকা’র কণ্ঠশিল্পী ও যন্ত্রশিল্পীদের নিয়ে। ছায়ানটের শিল্পীদের বৃন্দ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আয়োজন। সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন শিল্পী ওস্তাদ অসিত কুমার দে। এরপরেই একক কণ্ঠে শুদ্ধ সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুপ্রিয়া দাশ। তিনি গেয়ে শোনান রাগ মুলতানি। সতীন্দ্রনাথ হালদার শোনান রাগ পুরিয়া। আর লায়েকা বশীর শোনান রাগ নারায়ণী। পরপর তিনটি কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশনার পর তবলাবাদন নিয়ে আসেন মোহসিইউ জৌভিয়াল জিসাস ভুবন। তার সঙ্গে হারমোনিয়ামে ছিলেন লতিফুন জুলিও। এরপর খায়রুল আনাম শাকিল আসেন রাগ শুধ্কল্যাণ, রাগেশ্রী নিয়ে। সবশেষ পরিবেশনা ছিল আহসান জলকারনাইনের। তিনি শোনান রাগ বাগেশ্রী। আজ শুক্রবার এ উত্সবের সমাপনী দিনে অধিবেশন শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়।
দশম জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত
পোয়েটস্ ক্লাবের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ২২তম জন্মদিন উপলক্ষে শাহবাগের কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীর সেমিনার রুমে আয়োজিত ১০তম জাতীয় সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান। পোয়েটস্ ক্লাবের সভাপতি কবি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের এস ফোর্সের অধিনায়ক সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ বীর উত্তম। প্রধান আলোচক ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য কবি কাজী রোজী, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী। নির্ধারিত বক্তা ছিলেন কবি মুহাম্মদ আব্দুল খালেক, কবি আসলাম সানী প্রমুখ।
