জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, যে সকল দল, বুদ্ধিজীবী তথা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞগণ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান তাদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভোট কেন্দ্রে যতক্ষণ পর্যন্ত না আসবেন ততক্ষণ পর্যন্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। প্রমাণ করতে হবে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। ভোটাধিকার, গণতন্ত্র, নারী অধিকারসহ সকল প্রকার অধিকার নিজেদেরকেই আদায় করতে হবে।
তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার সয়না-রঘুনাথপুর ইউনিয়নে হোগলা বেতকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
পিরোজপুর-২ আসনে (কাউখালী-ভাণ্ডারিয়া-ইন্দুরকানি) ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি-জেপি’র প্রার্থী হিসাবে এ সভায় সমবেত বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের উদ্দেশে সংসদ সদস্য পদে তাঁকে ভোট দানের আহ্বান জানান। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, অধিকার ভোগ করতে হলে সচেতন হতে হবে, স্ব স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে হবে। উন্নয়নের কোন শেষ নাই, উন্নয়নের স্বাদ পেতে হলে মানুষকে শিক্ষিত হতে হয়। যখন জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন হয় তখনই বলা যায় মানুষ উন্নয়নের স্বাদ পেয়েছে। রাষ্ট্রের মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন মেটাতে হয়। আমরা সবাই রাজধানীমুখী বলে সম্পদের সুষ্ঠু ও সুষম ব্যবহার থেকে গ্রামের মানুষ বৈষম্য কবলিত ও বঞ্চিত থাকে। শহর ও গ্রামের মধ্যে উন্নয়নের সমতা আনতে আমি ৩৩/৩৪ বছর ধরে বলে আসছি যতদিন না পর্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মানুষ ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন না হবেন সে পর্যন্ত ন্যায্য হিস্যা থেকে তারা বঞ্চিত হবেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, এ সময়কালে আমি ছয়বার সংসদে আছি এবং এর অর্ধেক সময়কাল সরকারে থেকে অবহেলিত দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত। এ সময় দক্ষিণাঞ্চলে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে বাসিন্দাদের অভিযোজনে অভ্যস্ত করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা কাজে সাধ্যানুযায়ী ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারে থেকে গাবখান সেতু নির্মাণ, বলেশ্বর সেতু নির্মাণসহ এ অঞ্চল তথা সারা বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ করতে পেরেছি। গাবখান সেতু নির্মাণে চীন সরকারের বন্ধুত্বপূর্ণ বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা ছিল বলেই আমাদের অর্থ যত্ সামান্যই এ নির্মাণে ব্যবহূত হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে শেখ হাসিনার সরকারই কঁচানদীতে বেকুটিয়া সেতু নির্মাণ শুরু করেছে। ২০০১ সাল থেকে যারা সরকারে ছিলেন তারা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য কিছুই করেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা ১০ বছর ক্ষমতায় রয়েছেন এবং এ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ৪র্থ বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে ১৫ বছর অবিরাম সরকার প্রধান হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন। আল্লাহর রহমত ও জনগণের সমর্থনে ক্ষমতা লাভ করা যায়। কাজ করার ক্ষমতা ও সুযোগ আল্লাহর কাছে চাইতে হয়। আল্লাহই মানুষের সেবা করার তৌফিক দেন। এর জন্য তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেপি নেতা আবু সাইদ মনু মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের পিরোজপুর জেলা কমিটির সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলী খান পান্না, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, জাতীয় পার্টি-জেপি’র কাউখালী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শাহআলম নসু, সাংগঠনিক সম্পাদক সুনীল কুন্ড, কাউখালী ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুর রশীদ মিল্টন, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও পিরোজপুর জেলা পরিষদ সদস্য শাহজাদী রেবেকা শাহীন চৈতী, জেলা পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুকুল ইসলাম, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা মনজুরুল মাহফুজ পায়েল, উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি জিয়াউল হাসান জুয়েল, উপজেলা ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক শেখ কাইয়ুম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মৃদুল আহমেদ সুমন, সাধারণ সম্পাদক তৌকির আহম্মেদ সীমান্ত, যুবলীগ নেতা মাসুম খান ও ছাত্রলীগ নেতা রাসেল হোসেন।
এ সময় মঞ্চে ছিলেন জেপি’র ভাণ্ডারিয়া উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জ্বল, জেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ইউসুফ আলী আকন, কাউখালী উপজেলা জেপি’র সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, আমরাজুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো. শামসুদ্দোহা চাঁদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম আব্দুস শহীদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শাহ্ মো. আব্দুল কাইয়ুম, টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারিক, সমাজ সেবক জাহিদ হোসেন সিকদার প্রমুখ।
