শেখ হাসিনাকে জনগণ আবারও ক্ষমতায় আনবে :নাসিম

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৪

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। এ কারণে দেশের জনগণ আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় নিয়ে আসবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে এমএ কুদ্দুসনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জনসভায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে দেশে শান্তি ও স্বস্তি বিরাজ করছে। বিদ্যুত্ সমস্যার সমাধান ও জঙ্গি দমন হয়েছে। নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে নৌকার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর ভোটের লড়াইয়ে হেরে যাবে জেনে বিএনপি যে প্রচারণায় নামছে না জনগণ তা বুঝে গিয়েছে। জামায়াত-বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের অপপ্রচারে মানুষ বিভ্রান্ত হবে না।

গাজীপুরস্থ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর এলাকার অধিবাসী এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের এমডি ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন প্রমুখ।

নালিশ করে জনগণের ভোট আদায় করা যাবে না: ঢাকায় কেন্দ্রীয় ঔষধাগার প্রাঙ্গণে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ও জীপগাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচনের মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের মাঠে না থেকে অযথা নালিশ বা অভিযোগ করে জনগণের ভোট আদায় করা যাবে না। তিনি এ সময় প্রশ্ন করেন, ‘আমি বুঝি না মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে তাদের অসুবিধা কোথায়? নির্বাচন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে তখনো বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাইছে না কেন? মোহাম্মদ নাসিম এসময় ২০০১ সালে নির্বাচন পূর্ব সহিংসতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচনের আগে বিএনপির সন্ত্রাসীরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিয়েছিল। তবুও আওয়ামী লীগের কর্মীরা মানুষের কাছে যেয়ে সেই সময় ভোট প্রার্থনা করেছিল। হাজার প্রতিকূলতার মধ্যেও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিল আওয়ামী লীগ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট ‘ধানের শীষ’ মার্কায় নির্বাচন করছেন, যেখানে জামায়াতে ইসলামীরও নির্বাচনী মার্কা একই। অথচ ড. কামাল হোসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য ছিলেন। তিনি আজ কিভাবে একাত্তরের খুনি, মানবতা বিরোধী দলের সাথে মিশে গিয়েছেন জনগণ জানতে চায়। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াত ইসলামী আজও ক্ষমা চায়নি, ভুল স্বীকার করেনি। কিন্তু দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এই ঔদার্য এবং রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকার জন্য দেশবাসীর অন্তরে শেখ হাসিনা চিরজীবনের জন্য স্থান করে নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে ১৫টি সরকারি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ও ৪০টি উপজেলা হাসপাতালে জীপ গাড়ির চাবি তুলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বক্তৃতা করেন।