১৩ দিনের আল্টিমেটামে অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা, ভাঙালেন উপাচার্য

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ২৩:২১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ায় এর বিচারে চারদফা দাবিসহ গত রবিবার ভোর থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসেন সিফাতুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী। পরে ওইদিন তার সঙ্গে আরও তিনজন যুক্ত হন। দুইদিন টানা অনশন করার পর মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। 

অনশনরত শিক্ষার্থীরা হলেন- দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাতুল ইসলাম, মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী ও ডাকসুর সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল, তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের মোস্তাফিজুর রহমান, ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ও মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সদস্য আবদুর রহমান। 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থানরত অনশনকারী চার শিক্ষার্থীকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানান। প্রথমে উপাচার্যের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙতে রাজি হয়নি। পরে ধর্ষণের বিচার না হলে উপাচার্য নিজেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিবাদে অংশগ্রহণের কথা জানান। এক পর্যায়ে অনশনকারী শিক্ষার্থী সিফাতুল ইসলাম উপাচার্যকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেন। এতে উপাচার্য এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হন এবং তিনি প্রস্তাবটিকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন। এরপর উপাচার্য অনশনকারীদের জুস এবং পানি খাওয়ান। 

আরও পড়ুন: ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার চুল ধরে মারধর করে: ঢাবি শিক্ষক 

এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী, সহকারী প্রক্টর আবদুর রহিম, ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মাযহারুল ইসলাম শয়ন, সদস্য ফরিদা পারভীন, রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য, মাহমুদুর রহমান প্রমুখ।  

এ সময় উপাচার্য বলেন, গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার মাধ্যমে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন হোক যেন এদেশে কোনো অপরাধী বিনা বিচারে পার না পায়। 

প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নামার পর এক ছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি। ওই দিন রাত থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেয় অনশনকারীরা।

ইত্তেফাক/এসি