সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-দেবহাটা-কালীগঞ্জ) আসন

আওয়ামী লীগের একাধিক বিএনপি-জাপার একক প্রার্থী

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩৩

আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলা এবং কালিগঞ্জ উপজেলার একাংশ নিয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসন গঠিত। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিতে এসব প্রার্থী কেন্দ্রে জোর তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাতক্ষীরা-৩ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ. ফ. ম রুহুল হক তৃতীয়বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আর এক হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম। তিনি এই উপজেলা পরিষদের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এছাড়া আওয়ামী লীগের হয়ে নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেন্স অ্যান্ড টেকনোলজি খুলনার উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল­­াহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, কর্নেল (অব.) জামায়েত হোসেন, গোলাম রসুল বিপ্লব। এ ছাড়াও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে ড্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. শহিদুল আলম। এলাকায় তার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। আর জাতীয় পার্টি এরশাদের একক প্রার্থী হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, এই আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট স ম সালাউদ্দিন। শেষ মুহূর্তে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করতে পারেন জামায়াত নেতা রবিউল বাসার।

আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের সঙ্গে দেবহাটা উপজেলার পাঁচটি এবং কালিগঞ্জ উপজেলার চারটি ইউনিয়ন মোট তিন উপজেলার মোট ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৩,৮৭,৩৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৯৫,৫১৫ জন এবং নারী ভোটার ১,৯১,৮২৩ জন। এ আসনে গত দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন ডা. আ. ফ. ম রুহুল হক। তিনি ২০০৮ সালে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করায় এবং মন্ত্রী ও এমপি থাকাকালীন নিজে এবং তার আত্মীয়-স্বজনরা বিভিন্ন রকমের দুর্নীতি করায় এবং দুর্নীতি কমিশনের মামলা হওয়ায় তিনি বিভিন্নভাবে সমালোচিত হন। এছাড়া এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে তার যোগাযোগ অপেক্ষাকৃত কম। যে কারণে জনপ্রিয়তার দিক থেকে তিনি অনেক পিছিয়ে আছেন।

ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, আমি পর পর দুইবার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছি স্বাস্থ্য সেবা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সক্রিয় করেছি। আগামীতে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।

এদিকে এ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারি আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকীম। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তৃণমূলের মানুষের কাছে তুলে ধরতে উঠান বৈঠক করে দলের জন্য জনমত গড়ে তুলেছেন। ২০১৩-১৪ সালে জামায়াত-শিবির-বিএনপির তাণ্ডব সহিংস ও সন্ত্রাসী ঘটনার সময় তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে নিজেকে ঢাল হিসেবে তৈরি করে জামায়াত শিবিরের সঙ্গে লড়াই করে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজের জন্য নয়, রাজনীতি করি সাধারণ মানুষের জন্য। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোট পরাজিত হওয়ার পর এলাকায় সংখ্যালঘু ও দলীয় লোকজনকে রক্ষা করেছি। এবং ২০০৭ সালে নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন করার সময় গ্রেপ্তার হই এবং কারাবরণ করি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে জড়িয়ে আছি। সব সময় এলাকায় থেকে যতটুকু পেরেছি মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি এবং সাধারণ মানুষকে রক্ষা করেছি নেত্রী সেটা জানেন। সেজন্য এবং এলাকার জনগণের জন্য আরো কিছু করতে আগামী নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে নৌকা প্রতীক যিনি পাবেন তার পক্ষেই কাজ করবো।

এ ছাড়া এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মো. আব্দুল্ল­­াহ এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে সম্পূর্ণ নতুন মুখ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হতে পারলে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন এবং তার পরিকল্পনার কথাও মানুষকে জানান দিচ্ছেন। এ ছাড়া এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি ডা. মোখলেছুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক, সাবেক সংসদ সদস্য মনসুর আহমেদ, কর্নেল (অব.) জামায়েত আলী, গোলাম রসুল।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ড্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. শহিদুল আলম। এলাকার মানুষের কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয়।

ডা. শহিদুল আলম বলেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও পুলিশি হয়রানির কারণে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মাঠে দাঁড়াতে পারছে না। একের পর এক নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে বিএনপির কর্মী সমর্থকরা পর্যন্ত বাড়িতে থাকতে পারছে না। নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে তিনি অবশ্যই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। সুযোগ হলে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।

জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য অ্যাডভোকেট সম সালাউদ্দিন। আশাশুনি আসন থেকে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮তে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে তিনি রাজনৈতিক মাঠে নিজেকে দৃশ্যমান করছেন না।