প্রার্থীর মৃত্যুতে গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোট স্থগিত

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৭

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই এম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর মৃত্যুতে গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পুনঃতফসিলের মাধ্যমে এই আসনে ভোট নেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ তথ্য জানান। ইসি সচিব বলেন, স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মৃত্যুর সনদপত্রসহ কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পরে এ বিষয়ে কমিশন আদেশ জারি করবে। পরবর্তীতে পুনঃতফসিল ঘোষণা করে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, সাবেক মন্ত্রী ড. ফজলে রাব্বী গতকাল ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহে---রাজেউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তার ছোট ভাই বাদশা চৌধুরী, তার নির্বাচনী প্রচার কমিটির সাদুল্লাপুর উপজেলার অহ্বায়ক বিএনপি নেতা শফিউল ইসলাম স্বপন ও উপজেলা জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সাবেক সভাপতি আজিজুল ইসলাম এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ফুসফুসে সমস্যা, হূদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।

১৯৩৪ সালে ১ অক্টোবর পলাশবাড়ী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন ফজলে রাব্বী। তিনি ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিএসসি (অনার্স) পাস করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি আমেরিকা সরকারের বৃত্তি নিয়ে ১৯৬৩ সালে টেকসাস এন্ড এস হতে এমএসসি ও ১৯৬৫ সালে পিএইচডি লাভ করেন। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি উলফসন কলেজের ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে গাইবান্ধা-৩ আসন থেকে ১৯৮৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টাও ছিলেন। পরে ভূমিমন্ত্রী, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ও সংস্থাপনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনও করেন।

জাতীয় পার্টি-জেপি’র শোক

তার মৃত্যুতে জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নেতৃদ্বয় এক শোক বিবৃতিতে বলেন, তিনি জাতীয় পার্টির আমলে দীর্ঘদিন সহকর্মী হিসেবে চমত্কার ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তার মৃত্যুতে নেতৃদ্বয় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবার বর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।