স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, আগামী ২৭ ডিসেম্বর থেকে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর একযোগে কাজ শুরু করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে নতুন আইনের প্রয়োগিক বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার জন্য আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এনপিএস নামে নতুন মাদক আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। আমাদের দেশে কোনো মাদক তৈরি হয় না। পাশ্ববর্তী দেশ ও মাদক উত্পাদনকারী দেশ থেকে এই মাদক আমাদের দেশে সীমান্ত হয়ে আসছে। এই কাজে যারা মূল ভূমিকায় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তত্পর রয়েছে।
তিনি বলেন, আইনগত দুর্বলতা ও ফাঁক-ফোকরের কারণে প্রকৃত অপরাধীরা সুযোগ নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যায়। তবে সংশোধিত আইনে সে সুযোগ থাকবে না। নতুন আইনে ইয়াবা পাচার ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০০ গ্রামের বেশি এমফিটামিনযুক্ত ইয়াবা আটকে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদন্ড। আর গডফাদারদের জন্য মানিলন্ডারিং মামলায় শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর যেকোনো নতুন মাদকের আবির্ভাব ঘটলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ব্যবস্থা নিতে পারবে। আমরা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় যথেষ্ট সফল হয়েছি। আমরা অবৈধ মাদক ঠেকাতেও সফল হবো ইনশাল্লাহ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নানা কারণকে সামনে রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০-এর প্রয়োজনীয় সংস্কার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে শক্তিশালী করতে সরকার জনবল বাড়িয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ঢাকাসহ বিভাগীয় পর্যায়ের ৬টি নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে নতুন রাসায়নিক গবেষণাগার চালু চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায় অফিদফতরের লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর জন্য চেষ্টা চলছে। পাঠ্যপুস্তকে মাদকবিরোধী বিষয় সংযুক্ত করা হলে কিশোর বয়স থেকেই ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। কর্মশালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদসহ ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।
