অভিনয়ের মানুষ...

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২০, ২০:১৫

সময়ের একজন সম্ভাবনাময় ও মেধাবী অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক। নাটকে বেশ কিছু কাজেই অভিনয়-দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এই অভিনেতা। নাটকের বাইরে কাজ করেছেন বেশকিছু সিনেমায়ও। সম্প্র্রতি এক আলাপচারিতায় তার ব্যস্ততা ও কাজ নিয়ে লিখেছেন ইমরুল নূর

নাটকে কাজের ব্যস্ততা কেমন?

নাটকে কাজের ব্যস্ততাটা একটু বেশি। একক নাটকই বেশি করা হয়। প্রতি মাসেই কয়েকটা করে করা হচ্ছে। এরমধ্যে সম্প্রতি একটি নাটকের কাজ করেছি রিদম খান শামীমের পরিচালনায়। নাটকের নাম এখনো চূড়ান্ত হয় নি। এতে আমার সঙ্গে রয়েছেন তাসনিয়া ফারিন।

আর সিনেমায়?

নাটকের পাশাপাশি সিনেমাতেও মোটামুটি ব্যস্ততা রয়েছে। গেল বছরের শেষ দিকে আমার অভিনীত ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। এটি থেকে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। এই বছর একটি সিনেমাতেই কাজ করছি, সেটা হলো ‘অপারেশন সুন্দরবন’।  এটা ছাড়াও আরো কিছু ছবির বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। আর এই বছরে ঈদে মুক্তি পাবে আমার অভিনীত ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবিটি। 

‘অপারেশন সুন্দরবন’-এর শুটিং হচ্ছে সুন্দরবনের বিভিন্ন লোকেশনে। এ কাজের অভিজ্ঞতাটা জানতে চাই।

ছবিটিতে কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। কারণ এই ছবির যে টিমটি রয়েছে, সেটি অনেক গোছানো। এছাড়া টেকনিক্যাল যে টিমটি রয়েছে, তারা খুবই প্রি-প্ল্যানড কাজ করে। আর সুন্দরবনে শীতের মধ্যে কাজ করেছি। সেখানে বাঘ, সাপ এগুলোর ভয় তো আছেই। সবকিছু উপেক্ষা করে কাজটি করেছি। এর মধ্যে আবার সেখানে জোয়ার-ভাটাও হয়েছে। সবকিছুর মধ্যে দিয়েই আসলে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। সত্যি বলতে, পুরো শুটিংটা আমি খুব উপভোগ করেছি। এখানে আরো যারা কাজ করেছেন, তাদের প্রতিটা চরিত্রই চ্যালেঞ্জিং। সবাই যেভাবে হার্ড ওয়ার্ক করে কাজ করছে, সেটা দেখে অনেকটা মনোবল পেয়েছি। আমার চরিত্রটাও ছিল ঠিক এ রকমই। এখানে আমি একজন জেলের ছেলে চরিত্রে অভিনয় করছি, যারা সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নদীতে মাছ ধরে।

নাটক ও সিনেমা—এই দুই ক্ষেত্রে কাজের পার্থক্য কেমন অনুভব করেন?

সিনেমা হলো একটা বড় ক্যানভাস। নাটকে সময়টা কম থাকে, যেমন চল্লিশ মিনিট। আইডিয়ালি নাটকের এই চল্লিশ মিনিট আমাদের দশ দিনে শুট করা উচিত ছিল, প্রতিদিন চার মিনিটের দৃশ্য ধারণ করে। কিন্তু সেটার পরিবর্তে দুদিনে আমাদের কাজ শেষ করতে হয়, কারণ বাজেট কম থাকে। এছাড়াও সময় কম থাকার কারণে নাট্যকার, পরিচালক কিংবা শিল্পীদের যতটুকু প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, সেটা ঠিকমতো নিতে পারে না। এই তাড়াহুড়োটা থাকেই, তারপরও আমরা চেষ্টা করি, যতটা ভালো করা যায়। আর সিনেমাতে এই পরিসরটা থাকে। যেহেতু বড়ো পর্দায়, সেখানে সবকিছু ডিটেলে দেখা যায়। সবকিছু চোখে পড়ে আরো বেশি। সে কারণে প্রস্তুতি ছাড়া কাজ করার আসলে কোনো কারণ থাকে না। আলাদা একটা প্রস্তুতি নিতেই হয়। 

 

চলতি বছরে আপনার অভিনীত বেশ কয়েকটা ছবি মুক্তি পাবে। প্রত্যাশাটা কেমন?

এই বছরে নুরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’ ছবিটা মুক্তি পাওয়ার কথা। আর ‘মিশন এক্সট্রিম’, ‘অপারেশন সুন্দরবন’ও মুক্তি পাবে। প্রতিটা কাজই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটা ছবি নিয়েই আমি অনেক আশাবাদী। দর্শক প্রতিটিতে ভিন্ন রকম স্বাদ পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।