চৌগাছার আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের মানবেতর জীবন

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩৪

চৌগাছায় চারটি আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। জীর্ণশীর্ণ ঘর আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বিদ্যুিবহীন মহল্লা। নানাভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত এখানকার বাসিন্দাদের ভাগ্যের চাকা যেন ঘোরেনি বিন্দুমাত্র। ২০০৬ সালে তত্কালীন বাংলাদেশ সরকার সারাদেশের ন্যায় চৌগাছাতেও সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় ও আশ্রয়হীন লোকদের পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে চারটি আবাসন প্রকল্প তৈরি করে। যার মাধ্যমে এসব অসহায় বঞ্চিত লোকরা মাথাগোঁজার ঠাঁই পায়। আবাসন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পেটভরা, হাকিমপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুুর, পাতিবিলা ইউনিয়নে হায়াতপুর, ধুলিয়ানি ইউনিয়নে শাহাজাদপুর আবাসন প্রকল্প। বর্তমান সরকার আমলে সুবিধাবঞ্চিতদের উন্নয়নে যথেষ্ট কাজ করলেও উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি এই আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের। কোনো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় এসব আবাসন থেকে প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ পরিবার অন্যত্র চলে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পটি নির্মাণকারী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের চরম দুর্নীতির কারণে কয়েক বছর যেতে না যেতেই সম্পূর্ণ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এসব আবাসন। প্রকল্পের আধাপাকা টিন শেডগুলো মরিচা পড়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষা এলেই পলিথিন টাঙিয়ে অথবা ঘরের কোনে আশ্রয় নিয়ে কোনো মতে বেঁচে আছেন ভুক্তভোগীরা। মেঝে থেকে প্লাস্টার উঠে গেছে। প্লাস্টার ঝরে পড়ছে দেওয়াল থেকেও। নেই বিদ্যুত্ সংযোগ। সম্পূর্ণ নড়বড়ে ঘরে বসবাস করছে এখানকার হতভাগ্য মানুষরা। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবসহ স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন না থাকায় যেখানে-সেখানে, ঝোপ-ঝাড়ে মলমূত্র ত্যাগ করতে হয় তাদের। শাহাজাদপুর আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের গোসল করার একমাত্র পুকুরটিও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

সরেজমিন শুক্রবার উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের পেটভরা আবাসন প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, এখানে ১০০টি পরিবার থাকার জন্য পাঁচটি ব্যারাক রয়েছে। বর্তমানে ৩০টি পরিবারে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ জন লোক বসবাস করছেন। বাকিরা নানা সমস্যার কারণে অন্যত্র চলে গেছে।

আবাসনের স্বামী পরিত্যক্তা ৪নং ব্যরাকের ৭নং ঘরে  বসবাসকারী সকিনা খাতুন, ৪নং ব্যারাকের ৪নং ঘরের আনোয়ারা, স্বামী সামাদ আলী, ৩নং ব্যারাকের ৮নং ঘরে বিধবা ময়না, ৩নং ব্যারাকের ২নং ঘরে বসবাসকারী বিধবা জাহানারা জানান, সরকারিভাবে কোনো সাহায্য পাওয়া তো দূরের কথা কোনোদিন চেয়ারম্যান- মেম্বররাও কোনো খোঁজ-খবর নেয় না। কিন্তু ভোটের সময় আসলে অনেকে আদর করে  বু, ভাবি, খালা বলে রাস্তা থেকে ডাকতে ডাকতে ভোট ভিক্ষা করতে আসে।

হাকিমপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর বাওড়ের পাশে ৪০টি পরিবারের পুনর্বাসিত করা হয়। ২২টি পরিবার এখান থেকে চলে গেছে। বাকি ১৮টি পরিবারে প্রায় ৫২ জন লোক এখানে বসবাস করছেন।

পাতিবিলা ইউনিয়নের আবাসন প্রকল্পে ৬০টি পরিবার থাকার জন্য ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বিভিন্ন অসুবিধার কারণে ৪০টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে ২০টি পরিবারে ৭০ জন লোক বসবাস করছেন।

উপজেলার ধুলিয়ানি ইউনিয়নের শাহাজাতপুর আবাসন প্রকল্পে পর্যায়ক্রমে ৪০টি পরিবার পুনর্বাসিত করা হয়। কিন্তু সুবিধার থেকে অসুবিধা বেশি হবার কারণে ২০টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে ২০টি পরিবারে ৪৫ থেকে ৫০ জন নর-নারী বসবাস করছেন।

বর্তমান সরকারের ঘোষিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এমনকি সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি দরে কার্ডও তাদের ভাগ্যে জোটেনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলম জানান, এই প্রকল্পের জন্য সরকারি কোন বরাদ্দ নেই। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অন্য কোনো প্রকল্প থেকে এখানে বরাদ্দ দিয়ে যতটুকু উন্নয়ন করা যায় তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদেরকে আবাসন প্রকল্পে নজরদারি করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।