হবিগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় নজরুল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত কবি নজরুল ইনস্টিটিউট ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ‘নজরুলের অপ্রচলিত গানের সুর সংগ্রহ, স্বরলিপি প্রণয়ন, সংরক্ষণ, প্রচার ও নবীন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে গৃহীত ৩ দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল নজরুলসংগীতের প্রশিক্ষণ, নজরুলের জীবনীভিত্তিক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, বইমেলা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, এমপি। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। মুখ্য আলোচক ছিলেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাকম ভূঞা। এর আগে শহরে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। সন্ধ্যায় নিমতলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় ও অতিথি শিল্পীবৃন্দ। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বৃন্দাবন সরকারি কলেজে ‘নজরুল-বাঙালি ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম। মুখ্য আলোচক ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. বিশ্বজিত্ ঘোষ। আলোচনায় অংশ নেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাব ও তার দল এবং স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ। সমাপনী দিনে সরকারি মহিলা কলেজে ‘বাঙালি জাতীয় সংস্কৃতি ও সাহিত্যে জাতীয় কবির প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। মুখ্য আলোচক ছিলেন নজরুল গবেষক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এফ এম হায়াত উল্লাহ। সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন সংগীতশিল্পী জোসেফ কমল রড্রিক্স, সালাউদ্দিন আহমেদ, শরমিন জাহান ও শিউলী রায় এবং নৃত্যে ছিল ওয়ার্দা রিহাব ও তার দল। কবিতা পাঠ করেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন।
