লন্ডনের এক ক্রিমিনালের পরামর্শে পুলিশকে কাবু করার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:২৭

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে অশুভ শক্তি ২০১৪ ও ২০১৫ সালে সাধারণ মানুষের ওপর আগুন সন্ত্রাস চালিয়েছিল তারা আবার ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন প্রাক্কালে দেশে সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র করছে। লন্ডনভিত্তিক এক অপরাধীর বুদ্ধি-পরামর্শে এ অশুভ শক্তি দু’টি পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। একটি হলো পুলিশের একটা অংশকে কিনে নেওয়া এবং অপরটি হলো কিছু সংখ্যক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করে পুলিশ বাহিনীর মনোবল দুর্বল করা। লন্ডনে বসে সরকারবিরোধী একজন ক্রিমিনাল পুলিশকে কাবু করতে এই দ্বিমুখী পরিকল্পনা করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার আত্মবিশ্বাস রয়েছে যে, আগুন সন্ত্রাসীরা সফল হবে না। কেননা পুলিশ বাহিনী অধিকতর দক্ষতা ও দৃঢ়তা নিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তাদের পর এবার ৮৮ জন অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানিয়েছেন। গতকাল পুলিশের সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তারা গণভবনে এসে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ও আস্থার কথা জানান। শুধু তাই নয়, জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকবেন এমন কথাও বলেন কয়েকজন তাদের বক্তব্যে। সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের সঞ্চালনায় বেশ কয়েকজন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সংহতি ও সমর্থন জানানো অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে সাবেক আইজিপি ১৫ জন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ১৫ জন, সাবেক ডিআইজি ২৪ জন, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি তিনজন, সাবেক এআইজি ও পুলিশ সুপার ১১ জন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ১৫ জন। 

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোটের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, এই খুনি, অগ্নিসংযোগকারী, পুলিশের লোকদের হত্যাকারী, যেভাবে তারা হত্যা করেছে চিন্তা করা যায় না। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা, পিটিয়ে পিটিয়ে মারা, এতো জঘন্য কাজ তারা করতে পারে। এরা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে। আওয়ামী লীগের ভিশনের কথা জানিয়ে দলটির সভানেত্রী বলেন, একটা সময় আমরা হয়তো থাকবো না, আমাদের প্রজন্ম থাকবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারাও যেন একটা সুন্দর জীবন পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। শেখ হাসিনা বলেন, এখন যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতার ব্যাপারে পুলিশ বাহিনীর ওপর মানুষের অগাধ আস্থা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার সরকার ও দলের প্রতি সমর্থন দেয়ার জন্য সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি চাকরিরত কর্মকর্তাদের দেশ প্রেমের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে যেতে উত্সাহিত করবে। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালিদের বৈষম্য থেকে মুক্ত করতে আমাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সারাজীবন এদেশের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কষ্ট করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর তার সরকার প্রতিশোধ নেয়ার পরিবর্তে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করে। 

গতকাল আওয়ামী লীগের প্রতি সংহতি জানানো পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন- সাবেক পিএসপি কর্মকর্তা মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক আইজিপি এ টি আহামেদুল হক, সাবেক সচিব ও পুলিশ কর্মকর্তা মো. মমিনউল্লাহ পাটওয়ারী, সাবেক আইজিপি কুতুবুর রহমান, মো. শামসের আলম, এ কে এম এনায়েতউল্লাহ দেওয়ান, মো. আব্দুর রউফ, মো. আওলাদ হোসেন মিয়া, কাজী বজলুর রহমান, মো. আব্দুল হাননান, মো. রুহুল আমিন, মুহ. আব্দুল হাননান খান, এম সানাউল হক, মো. নুরুল আনোয়ার, এ কে এম শহীদুল হক, নূর মোহাম্মদ প্রমুখ। সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. সরওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আবদুর রহিম খান, মো. নুরুল আলম, মো. আলী ইমাম চৌধুরী, মো. ফজলুল হক, মো. আব্দুর রহিম, খন্দকার মোজাম্মেল হক, গোলাম মোস্তফা, মো. লুতফর রহমান মিয়া, মো. মতিউর রহমান, মো. আব্দুল মান্নান, মো. আব্দুল মাবুদ, অমূল্য ভূষণ বড়ুয়া, মো. নাজমুল হক, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ফাতেমা বেগম, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি বিনয় কৃষ্ণ বালা, নওশের আলী। সাবেক ডিআইজি মো. আবু হানিফ, দেওয়ান হাবিবুল্লাহ, মো. সফিক উল্লাহ, খন্দকার সাহেব আলী, কাজী নজরুল ইসলাম, মো. মোখলেসুর রহমান, শাহ আলম সিকদার, পি আর বড়ুয়া, মো. তোফাজ্জল হোসেন, মো. ওয়ালিউর রহমান, নিরাবরণ কুমার চন্দ, মোস্তফা জামাল উদ্দিন আল আজাদ, কাজী আনোয়ার হোসেন, মো. আলতাফ হোসেন মোল্লা, চৌধুরী আহসানুল কবীর, মো. সাজ্জাদ হোসেন, মোস্তাক হোসেন খান, সফিকুর রহমান, মকবুল হোসেন ভূঁইয়া। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গিয়াস উদ্দিন, গোলাম মোস্তফা, মীর নওশের আলী, মো. সিরাজুল ইসলাম, আওরঙ্গজেব খান লেনিন।