জিরাফ ও পাখির বন্ধুত্ব

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৩১

অনেক অনেক দিন আগের কথা। তখন পৃথিবীতে কোনো মানুষজাতি ছিল না। পৃথিবী শাসন করত পশুরা। গ্রীষ্মের মধ্যভাগে আফ্রিকায় একবার প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের সঙ্গে ঘন ঘন বজ্রপাত হতে শুরু করে। বজ্রপাতের ফলে শুকনো খড়কুটোর মধ্যে আগুন ধরে যায়। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

সকল প্রাণী নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে উন্মত্তের মতো ছোটাছুটি শুরু করে। কিন্তু একটি ছোট পাখি তা করল না। সে অস্থিরভাবে একটি গাছের এক ডাল থেকে অন্য ডালে ওড়াউড়ি করতে লাগল। কারণ একদিন আগে তার দুটি বাচ্চার জন্ম হয়েছে। সে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিত্কার করতে লাগল। সবাই জীবন রক্ষার জন্য এতই ছোটাছুটি করতে লাগল যে, কেউই ছোট পাখিটির কান্না শুনতে পায়নি। বড়ো বড়ো প্রাণীদের দৌড়াদৌড়ির শব্দের কারণে ছোট পাখির ছোট আওয়াজ চাপা পড়ে যায়।

সবচেয়ে লম্বা প্রাণী একটি জিরাফ তখন লক্ষ করল, একটি ছোট পাখি অশান্তভাবে লাফালাফি করছে। সে পাখির কাছে গিয়ে বলল, ‘তুমি কেন উড়ে চলে যাও না? যে গাছে বসে আছ সেটি তো এখনই আগুনে জ্বলে যাবে।’

পাখিটি ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘আমার বাসার মধ্যে ছোট ছোট বাচ্চারা আছে, আমি তাদের ফেলে চলে যেতে পারছি না।’

হঠাত্ মহানুভব জিরাফের মাথায় একটি বুদ্ধি এল। সে উত্তেজিতভাবে বলল, ‘আমি এই ভয়ংকর আগুন থেকে তোমার বাসা ও তোমাকে আমার মাথায় করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে পারব।’ পাখিটি অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাসাটি একটি শক্ত ডালের সাহায্যে জিরাফের মাথায় তুলে দিল।

আগুন খুব নিকটে এসে পড়ল। সুতরাং জিরাফ পেছনের দিকে না তাকিয়ে যত দ্রুত সম্ভব দৌড়ে এসে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে গেল। সে সাদা সাদা ফুল ফোটা সুন্দর সবুজ গাছের উঁচু ডালে পাখির বাসাটি রাখল। পাখিটি জিরাফকে অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে বলল, ‘আমি কি তোমার কোনো উপকারে আসতে পারি? আমি জানি আমি খুব ছোট, কিন্তু কোনোদিন যদি আমাকে প্রয়োজন মনে করো তাহলে অবশ্যই বলবে।’

জিরাফ কিছুক্ষণ ভেবে বলল, ‘ঠিক আছে তুমি একটা কাজ করতে পার, আমার পিঠে ছোট ছোট মাছি ও উকুন বসে। তারা আমার পশম নিয়ে টানাটানি করে এবং চামড়ার মধ্যে কামড় দেয়, যা খুব বিরক্তিকর। আমি এ সমস্যার কোনো সমাধান খুঁজে বের করতে পারছি না। তুমি তোমার ছোট ঠোঁট দিয়ে এগুলোকে মেরে আমাকে পরিত্রাণ দাও।’

জিরাফকে সাহায্য করার কাজ পাওয়ায় সে খুব খুশি হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে জিরাফের পিঠে উঠে বসে উকুনগুলোকে তুলে ফেলে এবং মাছিগুলোকে তাড়াতে থাকে। পাখিটির এ কাজের জন্য জিরাফ অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে মুক্তি পায় ও তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব হয়।

চিড়িয়াখানা অথবা খোলা জায়গায় আজও লক্ষ করলে দেখা যায়—জিরাফের পিঠে মাথায় পাখি বসে বসে মাছি ও উকুন তাড়াচ্ছে। এভাবেই তাদের মধ্যে চিরকালীন বন্ধুত্ব হয়ে যায়।