বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ড্রাফটে কীভাবে নাম এলো, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স তাকে দলভুক্তও করে ফেলল। যার বিন্দু বিসর্গও নাকি জানতেন না ক্রিস গেইল। টুইট করে বিপিএলে যুক্ত হওয়ায় নিয়ে নিজের বিস্ময়ের কথা জানিয়েছিলেন গোটা দুনিয়াকে। তারপর অনেক আলাপ-আলোচনার পর নিজেই আবার জানিয়ে দেন, বিপিএলের সপ্তম আসরেও আসছেন এই ক্যারিবিয়ান।
গত ৭ জানুয়ারি ঢাকায় এসেছেন গেইল। পরদিনই চট্টগ্রামের জার্সিতে খেলতে নেমে ২৩ রান করেছিলেন। গতকাল অনুশীলনের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন গেইল। তার আগেই চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছিল বিপিএলে খেলা, না খেলার বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। সাংবাদিকরাও ক্যামেরার সামনে ৪০ বছর বয়সি এই ক্রিকেটারকে বিব্রত করেননি। তবে আনুষ্ঠানিক কথার পর গেইল বলেছেন, পারিবারিক কারণেই বিপিএলের শুরুতে আসেননি।
পরে বর্তমান টি-২০ ক্রিকেট, নিজের ক্যারিয়ার-জীবন কথা বলেছেন ক্রিকেটের ক্ষুদে ফরম্যাটের সবচেয়ে বড়ো বিজ্ঞাপন গেইল। বয়সের কোটা এখন ৪০ এ গিয়ে ঠেকেছে। বিধ্বংসী ব্যাটসমান টার্গেট করছেন আরো ৫ বছর ক্রিকেট খেলার।
টি-২০ নতুন মহাতারকার নাম বলতে পারেননি এই ক্যারিবিয়ান। চক্রাকারে নতুন ক্রিকেটার আসবে, কেউ মহাতারকা হবে বলে জানিয়েছেন গেইল। তবে নিজের মতো কীর্তিমান কাউকে দেখছেন না তিনি। স্বঘোষিত ইউনিভার্স বস বলেছেন, ইউনিভার্স বস একজনই, এমন আর কেউ আসবে না।
গতকাল গেইল বলেছেন, ‘আর কোনো ক্রিস গেইল কিংবা ইউনিভার্স বস আসবে না। সবসময়ই একজন থাকবে এবং সেই একজন আমার মতো হবে না। নিজের স্বকীয়তার জন্য আপনাকে অবশ্যই বিশ্বব্যাপী ঘুরতে হবে, নিজের নামটাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, সব ধরনের কন্ডিশনে পারফর্ম করতে হবে এবং আমি নিজের ক্ষেত্রে সেটাই কিছুটা ভালোভাবে করতে পেরেছি। আমার আর কিছুই প্রমাণ করার নেই এবং আপনারা জানেন যে ক্রিকেট ক্যারিয়ারে আমি কোন জায়গায় আছি। সুতরাং তারা (নতুনরা) কীভাবে এগোচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখুন। তাদের অধিকাংশই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের জন্য তেমন সুযোগ পায় না। এ কারণে অনেকেই বিশ্বব্যাপী খেলার সুযোগটা পায় না, যেহেতু তারা অধিকাংশই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে।’
এখনো ক্রিকেটকে অনেক কিছু দেওয়ার আছে গেইলের। এমনটাই মনে করেন এই ক্যারিবিয়ান। ৪৫ বছর বয়স অব্দি খেলতে চান তিনি। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘অনেক মানুষই চায় এখনও ক্রিস গেইলকে মাঠে দেখতে। আমার নিজেরও খেলাটার প্রতি যথেষ্ট ভালোবাসা ও আসক্তি আছে। যতদিন সম্ভব আমি টি-২০ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চাই। আমি এখনো এখানে এবং সারাবিশ্বেই কিছু ম্যাচ খেলি কারণ এখন পর্যন্ত আমি অনুভব করি যে অনেক কিছুই আমার দেওয়ার আছে।’
তিনি আরো বলেছেন, ‘৪৫ খুব ভালো একটি সংখ্যা। চলুন ৪৫ নিয়ে একটু কথা বলি। আমি এটাকে ভালো সংখ্যা মনে করি এবং আমার কাছে এটাকেই সেরা মনে হয়।’
চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-২০ বিশ্বকাপ খেলার কথাও ভাবছেন গেইল। গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই অধিনায়ক বলেছেন, ‘এটা দারুণ হবে। সুযোগটা নেওয়ার জন্য দুয়ার খোলাই আছে। দেখা যাক কী হয়! আমাদের কিছু উজ্জ্বল তরুণ তারকাও আছে। নিজের ক্ষেত্রে আমি আমার পরিবারের কাছ থেকে কিছু শোনার অপেক্ষায় আছি। দেখা যাক ইউনিভার্স বস কোথায় কীভাবে এগিয়ে যায়।’
১৪ বছর আগে (২০০৫ সালে) অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে হার্ট সার্জারি করিয়েছিলেন গেইল। ঐ ওপেন হার্ট সার্জারির পর থেকেই জীবনকে উপভোগের মন্ত্রে নিজেকে সাজিয়েছেন তিনি। ক্রিকেট দুনিয়ার সবচেয়ে বড়ো ‘বিনোদনের ফেরিওয়ালা’ তকমা যখন তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করে, তখন বলতেই হয় গেইল সত্যিই সময়টা উপভোগ করছেন।
