শিরোপা জিতলে ভালো, না জিতলেও তেমন ক্ষতি নেই; এমন পরিস্থিতির ফায়দাটা দারুণভাবেই তুলছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদান। সৌদি আরবে অনুষ্ঠানরত সুপারকোপা দে এস্পানার সেমিফাইনালে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেই যেমন খেলেছিলেন পাঁচ মিডফিল্ডার নিয়ে। তবে এমন কৌশলে ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে তার দল। কোপা দেল রে চ্যাম্পিয়নদের ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে পৌঁছে গেছে টুর্নামেন্টের ফাইনালে।
গত বুধবার রাতে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে রিয়ালের তিনটি গোলই এসেছে মিডফিল্ডারদের পা থেকে। ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে প্রতিপক্ষ রক্ষণের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে সরাসরি গোল করেন টনি ক্রুস। ৩৯ মিনিটে রিয়ালের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইস্কো। ৬১ মিনিটে লুকা মদ্রিচ গোলের খাতায় নাম লেখালে ম্যাচটা ভ্যালেন্সিয়ার ধরাছোঁয়ার বাইরেই চলে যায়। ৯২ মিনিটে কোপা দেল রে চ্যামিপয়নদের সান্ত্বনার গোলটি করেন দানি পারেহো।
পাঁচ মিডফিল্ডারের কৌশল তো কাজে দিয়েছেই, গোল তিনটিও এসেছে মিডফিল্ডারদের পা থেকে। কৌশল কাজে লাগায় কোচ জিদান স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত, ‘আমরা ম্যাচটা উইঙ্গার নিয়ে খেলতে পারতাম কিন্তু আমি ইস্কো আর মদ্রিচকে আরো ভেতরে খেলতে বলেছিলাম। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা ছিল ওপরের দিকে চাপ সৃষ্টি করা এবং ভালো ফুটবল খেলা। শুরু থেকেই তাদের আঘাত করতে চেয়েছিলাম আমরা। সবকিছু ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছি আমরা।’
ফাইনালেও কি এমন নতুনত্ব আনবেন কৌশলে? এমন এক প্রশ্নের জবাবে জিদান বলেন, ‘আমরা সবসময়ই নতুন কিছু করতে চাই। পরের ম্যাচে আমরা অন্য কিছু করব।’ দলের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি, ‘সবাই দারুণ মান নিয়ে খেলেছে। সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু এখনো কিছুই জিতিনি আমরা।’
ম্যাচটিতে গোল করে মৌসুমে প্রথমবারের মতো লক্ষ্যভেদ করেন ইস্কো। যার ফলে রিয়ালের হয়ে তার গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯-এ, জিদান নিজেও ঠিক ৪৯টা গোলই করেছিলেন রিয়ালের হয়ে। সপ্যানিশ এই মিডফিল্ডারের প্রশংসায় জিদান বলেন, ‘তার সেরে ওঠায় আমার কোনো হাত নেই, তবে এটা হওয়ায় আমি খুশি। তার একটা ব্যক্তিত্ব আছে এবং সে খেলতে চায়। দায়িত্ব নিতে পিছপা হয় না সে।’
সার্বিয়ান ফরোয়ার্ড লুকা জভিচ আগের মৌসুমে দুর্দান্ত খেলেই এসেছিলেন রিয়ালে। তবে মৌসুমের শুরু থেকেই গোলের দেখা যেন পাচ্ছেনই না তিনি। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষেও সুযোগ নষ্ট করেছেন তিনি। তবে জিদান জানান গোল না করলেও ভালোই খেলেছেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড, ‘সে অনেক কাজ করেছে। যখন আপনি খুব বেশি খেলেন না তখন ব্যাপারটা সহজ হয় না। কারণ পর্যায়ের ভিন্নতা থাকে। সে মাঠে সামর্থ্যের সবটুকুই ঢেলে দিয়েছিল।’
