রপ্তানি কমে আসায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১৭

রপ্তানির গতি কমে আসায় চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরে মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এতে বাংলাদেশ বিষয়ে বলা হয়েছে, আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ অঞ্চলে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। মূলত রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবৃদ্ধিও অনেক বেশি হয়েছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরের শুরুতে রপ্তানি আগের চেয়ে কমেছে।

উল্লেখ্য, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সাড়ে ১০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি বেড়েছিল। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের ছয় মাসের হিসাবে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হয়ে গেছে। অর্থাত্ রপ্তানি হলেও আগের বছরের তুলনায় সেটি বৃদ্ধি পায়নি। বিশ্বব্যাংক বলেছে, গতবছর চীন-মার্কিনবাণিজ্য বিরোধের জেরে তুলনামূলক রপ্তানি সুবিধা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তাই সে সময় রপ্তানি বেড়েছিল তুলনামূলক বেশি। সংস্থাটি বলছে, ৭ শতাংশের ওপরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি  বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থা নির্দেশ করে। মূলত শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ফলেই এমন উচ্চ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উত্পাদনশীলতা যে হারে বাড়ছিল, সাম্প্রতিক সময় সেটি কমে গেছে। ২০১৩-২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় উত্পাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ১ শতাংশ। এটা পরবর্তীতে কিছুটা কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, সারা বিশ্বেই উত্পাদনশীলতার গতি কমে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে যদি স্বাভাবিক গতিতে বিশ্ব এগুতে থাকে তাহলে অর্থনীতির অবস্থার উন্নতি হবে। তবে বিশ্বব্যাপী ঋণ বেড়ে যাওয়া, উত্পাদনশীলতার গতি কমে যওয়া নীতিনির্ধারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক যে উত্তেজনা সেটির প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে পড়বে। বিশেষ করে ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেশি। ইরান ছাড়াও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির নানা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সিরিয়া, ইয়েমেনসহ অনেক দেশের অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।