ভিনদেশে ‘দেবী’ সমাচার

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৩৫

 

 

৩১ ফুট লম্বা হামার এইচ-টু লিমোজিন গাড়িতে করে নিউইয়র্কের জ্যামাইকা মাল্টিপ্লেক্সে  নামলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী জয়া আহসান। যুক্তরাষ্ট্রে তার আগমন উপলক্ষে ‘দেবী’ ছবির বিশেষ একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। জয়া আহসানকে অভ্যর্থনা জানান যুক্তরাষ্ট্রে দেবী ছবির ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিষ্ঠান বায়োস্কোপ ফিল্মসের সিইও ডা. রাজ হামীদ ও নওশাবা রশীদ রুবনা। সেখানে দর্শকদের সাথে ছবিটি উপভোগ করেন জয়া। তাদের সাথে আড্ডা দেন, ছবি তোলেন। এরপর তিনি লং আইল্যান্ড সিটির একটি ফাইভ স্টার ব্যাংকুয়েট হলে লাল গালিচা সংবর্ধনায় যোগ দেন। এতে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত, নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশের মিডিয়া জগতের তারকাশিল্পী, বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকরা।

এভাবেই দেবী ছবির সাফল্যের সেলিব্রেশন হলো নিউইয়র্কে। আয়োজকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি শহরে ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছে। শুধুমাত্র নিউইয়র্কেই ছবিটির ৭৯টি শো হয়েছে।

গত ১৪ ডিসেম্বর বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় অভিজাত হামার লিমোজিন গাড়িতে দেবী ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে পৌঁছাতে খানিকটা দেরিই হয়ে গেল। ততোক্ষণে ছবিটির প্রদর্শনী শুরু হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন ছবির অভিনয়শিল্পী ও প্রযোজক জয়া আহসান। ছবির বিরতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদের ধন্যবাদ জানান। 

ছবি শেষ হলে দর্শকদের সাথে আড্ডায় মেতে ওঠেন জয়া। এ সময় দর্শকরা দেবী ছবি নিয়ে তাদের ভালোলাগার কথা জানান। প্রিয় শিল্পীকে কাছে পেয়ে ছবি তোলেন প্রবাসী দর্শকরা।

এরপর একই গাড়িতে এবার যাত্রা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। লং আইল্যান্ড সিটির ফাইভ স্টার ব্যাংকুয়েট হল তখন কানায় কানায় পূর্ণ। জয়া যখন রেড কার্পেটে পা রাখলেন তখন অনুপম রায়ের কথা, সুর ও কণ্ঠে দেবী ছবির ‘দু-মুঠো বিকেল’ গানটি বেজে উঠল। দু-পাশে আমন্ত্রিত অতিথিদের অভিনন্দন আর শুভেচ্ছার জবাব দিতে দিতে সংবর্ধনা মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন জয়া। মঞ্চে আরো উপস্থিত হন বায়োস্কোপ ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতা ডা. রাজ হামীদ ও নওশাবা রশীদ রুবনা।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের মৃত্যুতে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর সাংবাদিক হাসানুজ্জামান সাকীর সঞ্চালনায় শুরু হয় কথোপকথন।

শুরুতেই দেবী ছবির সাফল্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দর্শকদের ধন্যবাদ জানান জয়া আহসান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তার হারানো গৌরব ফিরে পাচ্ছে। বিদেশেও বাংলা ছবির দর্শক সৃষ্টি হচ্ছে, চলচ্চিত্রের জন্য এটি ইতিবাচক দিক। দেশে এখন অনেক ভালো ছবি নির্মিত হচ্ছে, তবে ব্যক্তি বিশেষের চাইতে বাংলাদেশের সরকারই চলচ্চিত্রের বড় পৃষ্ঠপোষক।’ তিনি জানান, সুস্থ, সুন্দর চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকার নূন্যতম শর্তে অনুদান দিচ্ছে। যা আমাদের চলচ্চিত্রকে আরো অনেকদূর এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

ডা. রাজ হামীদ জানান, যুক্তরাষ্ট্রে দেবী ছবিটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ৩০টি শহরে ছবিটির অন্তত ১২০টির মতো প্রদর্শনী হয়েছে। লুজিয়ানার ব্যাটন রুজ ও কলোরাডোর ডেনভার শহরে প্রথম কোনো বাংলা ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। মিশিগানের ডেট্রয়েটে ১০ বছর পর বাংলা ছবি প্রদর্শিত হলো। 

যুক্তরাষ্ট্রে দেবী ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যের একটি আনুমানিক হিসেব দেন বায়োস্কোপ ফিল্মসের আরেক কর্ণধার নওশাবা রশীদ রুবনা। তিনি জানান, নিউইয়র্কে প্রথম দুই সপ্তাহে প্রায় ৫০ হাজার ইউএস ডলার আয় হয়েছে। তবে পুরো হিসেব এখনো পাওয়া যায়নি।  অন্যান্য শহরেও দেবী ব্যাপক সাড়া ফেলে।

এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জয়া আহসান।

দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চে আসেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা। তারা দেবীর প্রিমিয়ার শো’তে ছবিটি দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সুস্থ চলচ্চিত্রের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

মাসুদ বিন মোমেন সম্প্রতি আর্মেনিয়ার একটি ছবি দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘ওই দেশের গণহত্যার ওপর নির্মিত ছবিটি জাতিসংঘে প্রদর্শিত হলে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তা দেখেন। বাংলাদেশের গণহত্যা বা ইতিহাসের বৃহত্ প্রেক্ষাপট নিয়ে ছবি নির্মিত হলে তা বিশ্ব দরবারে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।’ তিনি এ ধরনের ছবি নির্মাণে এগিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকারদের প্রতি আহ্বান জানান। 

সাদিয়া ফয়জুন্নেসা বলেন, ‘জয়া আহসান দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গেও সমান জনপ্রিয় এবং সেখানকার ব্যস্ততম অভিনয়শিল্পী।’ জয়া আহসানকে দেশের একজন শুভেচ্ছাদূত আখ্যা দেন তিনি।

দেবীর সেলিব্রেশনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ভারতীয় পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলীর পরবর্তী ছবি বিজয়া’র প্রমোশনেও অংশ নেন জয়া আহসান। ছবিটিতে তিনি মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন। জয়া জানান, গতবছর ভারতে ‘বিসর্জন’ ছবিটি মুক্তি পায়। দুই বাংলার গল্প নিয়ে নির্মিত ছবিটি সেদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়। ছবিটি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। সেই ছবির সিক্যুয়েল এই ‘বিজয়া’।

জয়া অভিনীত বিজয়া জানুয়ারিতে ভারত ও বাংলাদেশে মুক্তি পাবে। যুক্তরাষ্ট্রেও ছবিটি একই সময় মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে ছবিটির ট্রেইলর সর্বমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত বিজয়া দেখার জন্য জয়া আহসান সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ অভিনয়শিল্পী রেখা আহমেদ, খাইরুল ইসলাম পাখি, রিটা ফারিয়া, রিচি সোলায়মান, সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি, উপস্থাপিকা ফাতেমা শাহাব রুমা, সংবাদ পাঠিকা সাদিয়া খন্দকার প্রমুখ।