ফেসবুক কর্ণার

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৩২

সংকলন সাইফুল ইসলাম জুয়েল

আমার বই বিক্রি হয় না। তা নিয়ে আমার কোনো কমপ্লেন নাই। কিন্তু আমি বই বিক্রি করতে দিলাম ১৫০, অবিক্রীত ২০০ কপি ফেরত এলো কেন, এইটা নিয়ে আমি ধন্দে পড়ে গেলাম।

আমার বই ছাপা হলো। আমি দেড়শ কপি বই বিভিন্ন দোকানে আর স্টলে রাখতে দিলাম। বললাম, ‘ভাই, টাকা লাগবে না। যদি বিক্রি হয়, কিছু দিয়েন।’

ছয় মাস পর দোকানিরা ফোন করে, ‘ভাই, আপনার বই বিক্রি হয় না। ফেরত নিয়ে যান। আমাদের গোডাউনে জায়গা নাই। ফেরত না নিলে ফেলে দিব।’

আমি ভাবলাম, নিজে টাকা দিয়ে লোক পাঠিয়ে ত্রিশ কপি কিনিয়েছি। সেই ৩০ কপির দাম তো পাওয়া যাবে।

বই ফেরত আনতে গেলাম। দিয়েছিলাম ১৫০, ফেরত এলো ২০০।

কীভাবে সম্ভব। আর আমি নিজেই তো কিনে নিয়েছি ৩০ কপি।

এ কী ভুতুড়ে কাণ্ড!

অনেক পরে জানতে পেরেছি আসল ঘটনা!

আমি দিয়েছি ১৫০ কপি। আর বাইন্ডাররা চুরি করে দিয়েছে ৮০ কপি। ৩০ কপি আমি কিনেছি। এক কপিও বিক্রি হয়নি। তাই ২০০ কপি ফেরত এসেছে।

দোকানিরা বলল, ‘আপনি দিয়েছেন যত কপি, ফেরত পাচ্ছেন তার চেয়ে বেশি, সেগুলোর দাম দিতে হবে।’

আমাকে আরো ৫০ কপির দাম নিজের পকেট থেকে দিতে হলো। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল।

এখন এই ২০০ বই নিয়ে আমি কী করব?

বইয়ের দাম ছিল ১৫০ টাকা। পট্টি মেরে দাম বাড়িয়ে করলাম ৫০০ টাকা।

তারপর বন্ধু আর আত্মীয়স্বজনদের জন্মদিনে, বিয়েতে বই গিফট করা শুরু করলাম।

এতে উপকার পেলাম।

এখন আর কেউ আমাকে দাওয়াত দেয় না।

আমার অনেক অবসর। অবসর সময়ে আমি বই লিখি।

v আনিসুল হক

 

লিটার। তরল পদার্থ পরিমাপের একক। কেরোসিন, পেট্রোল, ডিজেল, মবিল ইত্যাদি তরল পদার্থ লিটার হিসেবে মাপা হয়। ব্যাপারটা ছোটবেলা থেকেই জেনে এসেছি। কিন্তু বড়োবেলায় মাইক্রো ওভেন কিনতে গিয়ে আকাশ থেকে মাটিতে ধপাস করে পড়েছিলাম। দোকানি জানতে চেয়েছিলেন কত লিটারের ওভেন লাগবে। অবাক হওয়ায় তিনি বুঝিয়ে বলেছিলেন, যেটার ভেতরে যত লিটার পানি ধরে, সেটা তত লিটারের ওভেন।

এবার ট্রাভেল ব্যাকপ্যাক কিনতে গিয়ে আকাশ থেকে মাটিতে না, মাটি থেকে মার্কেটের ছাদ ফুঁড়ে একেবারে আকাশে উঠে গিয়েছিলাম। বিশাল এক ব্যাকপ্যাক বের করে দোকানি বললেন, ‘এটা নিন, স্যার। ৭০ লিটার।’

‘লিটার!’

দোকানি জানালেন, যেটার ভেতরে যত লিটার পানি ধরে, সেটা তত লিটারের ব্যাকপ্যাক।

এত বড়ো! এ জিনিস পিঠে নেব কী। এটার ভেতরে আমাকে ভরে পেঁয়াজের বস্তার ট্রাকে তুলে পাচার করে দিলে কেউ কোনো সন্দেহ করবে না।

বললাম, ‘এর চেয়ে ছোট নেই?’

‘এটাই নিন, স্যার। ভালো হবে।’

‘আরে, আমি তো আপনার এটার ভেতরে পানি ভরে মাছ পালব না। আমার দরকার এর চেয়ে ছোট।’

শেষে ৫০ লিটারের এই ব্যাকপ্যাকটা কিনেছি। সুন্দর না?

কিছুদিন পরই হয়তো লিটার হিসেবে জুতাও কিনতে হবে!

v হাসান মোস্তাফিজ

 

ইসিজি রুমে শুয়ে আছি...

—নরমাল থাকুন।

—জি।

—কী করেন?

—ব্যাংকে চাকরি করি।

—স্যার, রিলাক্স থাকুন।

—জি।

—কোথায় কাজ করেন বললেন?

—জি ব্যাংকে কাজ করি

—স্যার, প্লিজ রিলাক্স থাকুন, আপনার রিপোর্ট অ্যাবনরমাল আসতেছে।

—ম্যাডাম, আবার নতুন করে করেন, আর প্লিজ কী কাজ করি, কোথায় করি—এই টাইপ প্রশ্ন করবেন না, দেখবেন রিপোর্ট নরমাল আসবে...

v ফখরুল আবেদীন মিলন

 

v মত্স্যবিজ্ঞান বিভাগের সামনে পুকুরপাড়ে অভিভাবকরা বসে আছে! এক আপু এক ভাইয়ার হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছে!

এক অভিভাবক আন্টি তার স্বামীকে ওই কাপল দেখিয়ে বলছে, ‘চান্স পেলে আমাদের মেয়েও এমন হাত ধরে ঘুরবে!’

Inner me—আপনার মেয়ের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিবেন?

v মোহাম্মদ আকবর হোসাইন

 

v ধরুন, একটা গ্রুপে কয়েকজন ব্রিটিশ বা আমেরিকান কথা বলছে, আপনি অনেক ইংরেজিই বুঝবেন না। কিন্তু একটা গ্রুপে কিছু চায়নিজ, কাজাখ, জাপানিজ, জার্মান কথা বলছে তাহলে আপনি অনেক কিছুই বুঝতে পারবেন। কারণ তারা যা বলছে তার বেশিরভাগ শব্দই হলো :ইয়া, ইয়া ইয়া, ইয়া ইয়া ইয়া। কিছু বুঝলেও ইয়া, না বুঝলেও ইয়া।

কথা ঠিক কিনা? বলেন ‘ইয়া’!

v সহস্র সুমন

 

v একটা জরিপে দেখলাম ৮০% মেয়ে প্রেম করে। বাকি ২০% মেয়ে সিঙ্গেল।

অপরদিকে ছেলেদের মধ্যে ৪০% প্রেম করে। বাকি ৬০% ছেলে সিঙ্গেল।

অর্থাত্ সমীকরণটা দাঁড়াল ১ :২। এর মানে একটি ছেলে একসঙ্গে অন্তত দুটি মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে।

কিন্তু কথা হলো ভাই, দুইটা তো দূরে থাক, আমার ভাগের একটা কই?

v শোয়েব মুন্না

 

v যখন তোর স্ত্রী তোর বুকে মাথা রাখে এবং ধীরে ধীরে জিজ্ঞেস করে, ‘জান! তোমার কি আমি ছাড়া অন্য কোনো মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে?’

তোর উত্তর এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়, মনে রাখবি, তোর বুকের ধুক ধুক গুরুত্বপূর্ণ।

শান্ত থাকবি এবং আস্তে আস্তে শ্বাস ফেলবি।

প্যানিক হবি না!! এটা শুধু তোর বায়োমেট্রিক পরীক্ষা।

(কালেক্টেড)

 

v রুমমেট বড়ো ভাইয়ের প্রেমিকা ক্যাম্পাসে একটা আর গ্রামের আরেকটা।

গ্রামেরটা ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতে আসবে। আর তাই ধরা খাওয়ার হাত থেকে রেহাই পেতে সে ক্যাম্পাসেরটাকে ফোন দিয়ে বলতেছে, ‘শোনো? অ্যাডমিশনে তো প্রচুর মেয়ে ক্যান্ডিডেটও আসবে। তোমার নিজের সিট ছেড়ে ওদের থাকার জায়গা দিতে হবে। কষ্ট করে ফ্লোরে থাকার কিংবা রাত জেগে থাকার দরকার নেই। তুমি বরং বাড়ি থেকে ঘুরে আসো। অ্যাডমিশন এক্সাম শেষ হলে চলে এসো।’

আমি তার কথা শুনে হাসতে হাসতে বললাম, ‘ভাই? আমি অপেক্ষায় আছি, সেই খবরটার জন্য যেদিন অ্যাডমিশন রেজাল্ট দেবে আর আপনার প্রেমিকা চান্স পেয়ে বলবে, “বাবুউউউউ? আমার তো পজিশন আসছে। বলো তো তোমার ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হবো নাকি ফার্মেসিতে হবো?” আর তখন আপনার মুখের এক্সপ্রেশনটা আমি প্রিন্ট করে রুমের দরজার সামনে লাগিয়ে রাখব।’

v  সাখাওয়াত হোসাইন

 

v শুধু বিবাহিত পুরুষদের জন্য, ডিপ্লোম্যাটিক হোন ভালো থাকুন।

১. প্রশ্ন :বউ খাবার সময় বেশ হাসি মুখে বলল, ‘রান্না কেমন হয়েছে?’

অনেস্ট অ্যান্সার :‘ভালোই, তবে আরেকটু রসুন দিলে বেশি মজা হতো, আর লবণটা স্লাইটলি কম হলে।’

ফিডব্যাক :‘হইসে! আর খাওয়া লাগবে না। আমি তো আসলে কিছুই পারি না!’

তেলমারা অ্যান্সার :‘অসাধারণ! তুমি আমাকে আর কত অবাক করবা! ফাইভ স্টারের মাস্টার শেফ ফেইল!’

ফিডব্যাক :‘এক চামচ খেয়েই এত কথা বলে দিলা! চাপাবাজিটা একটু কমাও! সত্যিকারের কম্পলিমেন্ট দিতে শেখো!’

ডিপ্লোম্যাটিক অ্যান্সার :খুব গম্ভীর কণ্ঠে, ‘তুমি রেঁধেছ! তোমার রান্না তো পুরা আম্মার মতো!’

ফিডব্যাক :গদগদ মুখে, ‘আরেকটু খাও, এক চামচ দেই?’

২. প্রশ্ন :‘অ্যাই, মেকআপটা কেমন হইছে?’

অনেস্ট অ্যান্সার :‘একটু বেশি হয়ে গেছে! কম হলে আরো ভালো লাগত।’

ফিডব্যাক :রাগ করে মেকআপ তুলতে তুলতে, ‘যাবই না আজ! আমি তো মেকআপই পারি না! তুমি যাও একা একা! পার্টিতে গিয়ে সুন্দরীদের সাথে ঢং করে আসো!’

তেলমারা অ্যান্সার :‘ও মাই গড! অসাম মেকআপ! কীভাবে এত জোশ মেকআপ করো!’

ফিডব্যাক :‘না বুঝে বেশি কথা বলো। আর ঠিক কথা বলবাইবা কীভাবে! আমার দিকে তো আর তাকাও না, চোখ থাকে অন্য মেয়েদের দিকে!’

ডিপ্লোম্যাটিক অ্যান্সার :বেশ কিছুক্ষণ মুখের দিকে তাকিয়ে, ‘ন্যাচারাল হইছে!’

ফিডব্যাক :উচ্ছ্বসিত হয়ে, ‘তুমি এত কিছু বুঝো কীভাবে! বাহ! ইউ আর রিয়েলি গুড!’

৩. প্রশ্ন :শাড়িটা আমাকে কেমন মানিয়েছে?

অনেস্ট অ্যান্সার :‘গ্রিন শাড়িটা পরলে দারুণ লাগত!’

ফিডব্যাক :‘ক্যানো! গ্রিন কি তোমার এক্স কোনো গার্লফ্রেন্ডের পছন্দের রং?’

তেলমারা অ্যান্সার :‘পুরা অপ্সরা! মনে হচ্ছে অ্যাফ্রোদিতি চলে এসেছে!’

ফিডব্যাক :‘এই সব তেল আমাকে দিবা না! বিরক্ত লাগে!’

ডিপ্লোম্যাটিক অ্যান্সার :‘মাথায় রেখো, বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছ, বউয়ের চেয়ে তোমাকে বেশি সুন্দর লাগলে কিন্তু সমস্যা!’

ফিডব্যাক :আহ্লাদী কণ্ঠে, ‘যাহ! কী যে বলো না!’

ডিপ্লোম্যাটিক হোন, বিবাহিত জীবনে সুখে থাকুন।

(কালেক্টেড)