আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত আইন বাতিল করার দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। গতকাল শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের ধানমন্ডির বাসভবনে অনুষ্ঠিত জোটের এক বিশেষ সভা শেষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে এমপিরা সিটি নির্বাচনে প্রচার চালাতে পারবেন না। একজন কাউন্সিলর প্রার্থী যিনি সংসদ নির্বাচনের সময় এমপির পক্ষে কাজ করেছেন, এখন সেই এমপি তার নির্বাচনের সময় ভূমিকা রাখতে পারবেন না—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সাবেক মন্ত্রীরা প্রচার চালাতে পারলে বর্তমান এমপিরা পারবেন না কেন? এটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে পারে না। এই আইন বাতিল করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
সভাপতির বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী এমপিরা প্রচারে যেতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশন এটা বলায় আমরা দুঃখ পেয়েছি। আমরা মনে করি, সংসদে এই আইনটি পরিবর্তন করা দরকার। বিএনপির নেতারা টপ টু বটম নির্বাচনের প্রচারে নামতে পারবে, আমরা পারবো না—এটা দুঃখজনক। তারপরও যেহেতু আইন আছে আমরা সেটা মেনে চলছি। তিনি বলেন, এ সিটি নির্বাচন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির লড়াই। এই নির্বাচন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনে বিজয়ের জন্য আমাদের মানুষের বাড়ি-বাড়ি, ঘরে-ঘরে যেতে হবে, বিনয়ের সঙ্গে ভোট চাইতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম নির্বাচনে বিজয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য তাদেরকে নির্বাচিত করতে হবে। ১৪ দলের এই বিশেষ সভা থেকে এই দুই প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, বাসদের রেজাউর রশীদ খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
