শিগগিরই রাজশাহী-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস চালু হচ্ছে। নীতি নির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, এই রুটে ট্রেন চালুর ‘রুট সিলেকশন’ নিয়ে গত ডিসেম্বরেই রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে।
অবিভক্ত বাংলায় ভারতের মালদহ বা মুর্শিদাবাদ হয়ে রেলপথে কলকাতার সাথে রাজশাহীর যোগাযোগ ছিলো। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পৃথক রাষ্ট্র গঠনের পর সেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবে চিকিৎসা ও ভ্রমণসহ নানা কারণে রাজশাহী অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিদিন ভারত যাচ্ছে। তাই ঢাকা-কলকাতা এবং খুলনা-কলকাতার পর রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চালুর গুরুত্ব বেড়েছে।
এদিকে রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চালুর খবরে এরই মধ্যে রাজশাহীসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁর অধিবাসীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে বর্তমানে ভারতের সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রেন যোগাযোগ চালু রয়েছে। এজন্য দু’দেশের রেলপথও সংস্কার করা হয়েছে। নেপালের রুট দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সারও আমদানি করেছে। তবে, তৃতীয় এই ট্রেন সার্ভিস চালু হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলস্টেশন চত্বরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস সুবিধা চালু করতে হবে। বর্তমানে রহনপুরে কাস্টমস কার্যালয় থাকলেও তাদের নিজস্ব ভবন নেই। রহনপুর রেলবন্দর চত্বরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস স্টেশন নির্মাণ করার জন্য রেলওয়ের যথেষ্ট জায়গা রয়েছে।
আরো পড়ুন: হেরি-মেগানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বৈঠকে বসছেন রানী
জানা গেছে, ২০১৭ সালে ভারতের হাইকমিশনারের মাধ্যমে রাজশাহীর সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠান। ওই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ভারত সরকার। আগামী মাসেই এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত ৩০ অক্টোবর রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এবং ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাসের সঙ্গে এই বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।
জানতে চাইলে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন,‘ রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধা ছাড়াও রাজশাহীর সঙ্গে ভারতে যোগাযোগের নতুন মেলবন্ধন তৈরিতে তিনি এ প্রস্তাবনা করেন। এতে রাজশাহীর অর্থনীতিতে গতি আসবে।’
তিনি মনে করেন, রাজশাহী-কোলকাতা ট্রেন চালু হলে ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে রাজশাহীর যোগাযোগের গুরুত্ব বাড়বে। তখন রাজশাহী ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হবে। এছাড়া রাজশাহী অঞ্চলের ভারতগামী মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
এছাড়া রাজশাহী-কলকাতা চালুর ‘রুট সিলেকশনে’র বিষয়ে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মিহির কান্তি গুহ।
তিনি বলেন,‘ রুট সিলেকশনের পর কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, র্যাক নির্ধারণ ও সময়সূচিসহ অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত হবে।’ তবে, মালদহ হয়ে ট্রেন চলাচল করলে অন্তত সাড়ে সাত ঘণ্টা সময় বেশি লাগবে বলেও রেলমন্ত্রীকে জানান তিনি।
এ রুটে এখন মালবাহী ট্রেন চলছে। কিন্তু যাত্রীবাহী ট্রেন ও মালবাহী ট্রেনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রেলমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার পরই ‘রুট সিলেকশন’ চূড়ান্ত হবে। এরপর অনুমোদনসহ অন্য বিষয়গুলো চূড়ান্ত হবে।
ইত্তেফাক/এএএম
