ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চলমান হোম সিরিজে অনেক অর্জনের ভারে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ। টেস্টে প্রথমবার কোনো প্রতিপক্ষকে ফলো অন করিয়ে ইনিংস ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে। ওয়ানডে সিরিজটাও বগলদাবা করেছে ২-১ এ। দুই ম্যাচ শেষে টি- টোয়েন্টি সিরিজটা ১-১ এ সমতায় রয়েছে। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটা জিতলে টি-টোয়েন্টি সিরিজটাও বাংলাদেশের কাছেই থাকবে।
আর তাতেই নতুন এক ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশের ক্রিকেট। হবে অনন্য অর্জন। গড়বে নতুন মাইলফলক। টেস্ট স্ট্যাটাস উত্তর সময়ে গত ১৮ বছরে কখনোই কোনো প্রতিপক্ষকে এক সিরিজে তিন ফরম্যাটেই (টেস্ট, ওয়ানডে, টি-২০) সিরিজ হারানোর নজির নেই বাংলাদেশের। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলেই প্রথমবার এই কীর্তি গড়বে লাল-সবুজের ক্রিকেট।
ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে এবার টেস্টে ২-০ তে, ওয়ানডেতে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ। এবার নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে প্রয়োজন আজকের ম্যাচের জয়টা।
ইতিহাস গড়ার এই সম্ভাবনার কথা শুনে গতকাল তামিম ইকবাল বললেন, ‘এটা অনেক বড় অর্জন হবে।’
তবে এখনই এই অর্জনের রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে না গোটা বাংলাদেশ দলকে। কারণ টাইগারদের বেশিরভাগেরই জানা নেই এমন খবর। তামিমের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আজকের ম্যাচের জয়টা। তার জন্য সেরাটা নিংড়ে দিতে চান এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
গতকাল তিনি বলেছেন, ‘এরকম কথা আমাদের মাথায় নাই। এমন কোনো কিছু আমাদের মাথার মধ্যে নাই। আর জানিও না। আসলে অনেকে জানেও না এই কথাটা। আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কালকে (আজ) খেলাটা জেতা। সেটার জন্য আমরা যা করা দরকার, সেটা করার চেষ্টা করবো। আল্লাহ যদি আমাদের কপালে রাখে তাহলে অবশ্যই হবে। যদি না থাকে তাহলে হবে না।’
জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, জয়ে সিরিজ শেষ হবে বলে আশাবাদী তিনি। তিন ফরম্যাটেই প্রথমবার সিরিজ জয়কে বড় গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখছেন তিনি। গতকাল বলেছেন, ‘এরকম সুযোগ তো সবসময় আসে না। তিন ফরম্যাটেই সিরিজ জেতা, এটা তো অনেক বড় ব্যাপার। ভালোই তো খেলছে এই সিরিজে। আমি আশাবাদী যে, জিতেই সিরিজটা শেষ করতে পারবো।’
অতীতে দেশে, দেশের বাইরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক সিরিজে তিন ফরম্যাটেই খেলেছে বাংলাদেশ ১৭ বার। যেখানে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-২০ সব ফরম্যাটেই সিরিজ জয়ের সোনায় সোহাগা মুহূর্ত আসেনি একবারও। প্রথমবার কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তিন ফরম্যাটে খেলেছিল বাংলাদেশ ২০০৮ সালের নভেম্বর। সেবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিন ফরম্যাটে সব ম্যাচই হেরেছিল বাংলাদেশ।
ঠিক পরের বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এসেছিল তিন ফরম্যাটে সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জনের সুযোগ। খর্বশক্তির উইন্ডিজদের টেস্ট, ওয়ানডেতে হারালেও একমাত্র টি-২০ তে হেরে গিয়েছিল সাকিব আল হাসানের দল।
তিন ফরম্যাটে খেলে সব ম্যাচ হারের সিরিজগুলো হলো ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফর, ২০১১ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হোম সিরিজ, ২০১৪ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে হোম সিরিজ, ২০১৬-১৭ সালের ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফর, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর।
ব্যতিক্রমী নজির ছিল ২০১৭ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কা সফরে। সেবার তিন ফরম্যাটেই স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে সিরিজ ড্র করেছিল বাংলাদেশ। আটটি সিরিজ ছিল যেখানে কোনো না ফরম্যাটে সিরিজ জিতেছিল বা সিরিজ ড্র করেছিল টাইগাররা। অবশ্য ২০১৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট-ওয়ানডে হারলেও একমাত্র টি-২০ ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চলমান সিরিজটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তিন ফরম্যাটে খেলার হিসেবে বাংলাদেশের ১৮তম সিরিজ। আর ১৮ মানে যুবা, তারুণ্যের উদ্যম। তবে কি বিজয়ের মাসে আজ মিরপুরে ভয়ডরহীনতার তারুণ্যদীপ্ত সময়েই নতুন কীর্তি গড়বে টাইগাররা?
আজ সন্ধ্যার পরই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে বাংলাদেশ।
