সিটি নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না :কাদের

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ২২:২৭

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন, সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। কমিশনের দায়িত্ব অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।’ তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন।  এই নির্বাচনে হারলে সরকারের পরাজয় হবে না।

গতকাল সোমবার বিকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কৃষক লীগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কৃষকের স্বাস্থ্যসেবা’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে আমরা স্বচ্ছ ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী দিয়েছি। এই দাবি বিএনপি করতে পারবে না। এ নির্বাচন হবে ভয়মুক্ত, স্বচ্ছ, আবাধ ও নিরপেক্ষ। আমরা বিতর্কমুক্ত নির্বাচন করতে চাই। কারণ আমাদের প্রার্থীদের ইমেজ-সংকট নেই। জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে ইভিএমের পক্ষে। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বাসী। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে ইভিএম রাখবে না, সেটা ইসির বিষয়।’ কৃষক লীগে বিতর্কিতদের স্থান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেকে কৃষক লীগের ধারেকাছেও নেই, অথচ কৃষক লীগের পরিচয় দেয়। এটা যেন ভবিষ্যতে না হয়। কৃষকের কর্মক্ষেত্রে নেই এমন ব্যক্তিদের কৃষক লীগের কমিটিতে যেন স্থান দেওয়া না হয়।

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব যদি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন, তাহলে আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি কেন অংশ নিতে পারবেন না? সব গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে দেখেছি। ভারতের ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন এবং নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রেখেছেন। উন্নত দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় এমপি-মন্ত্রীদের প্রচারণা চালানোতে কোনো বাধা নেই। আমাদের এখানে কেন এমনটা হলো? এটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে পারে না।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে কৃষক লীগের উদ্যোগে আগামী ১৭ মার্চ পর্যন্ত ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেবে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনটি। উদ্বোধনী দিনে দেড় শতাধিক কৃষক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন। এতে বিনা মূল্যে চিকিত্সা ব্যবস্থাপত্র, রক্ত পরীক্ষা, ডায়বেটিস, প্রেশার পরীক্ষা করা হয়। পরে কিছু কিছু ওষুধ বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়। কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্র চন্দের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাচিপের মহাসচিব ডা. এম এ আজিজ, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি প্রমুখ।