গোয়ালন্দের চরাঞ্চলে শীতে কাবু দরিদ্র কয়েক হাজার মানুষ

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০৯

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। সেখানে শীতবস্ত্রের অভাবে এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ শীতে কষ্ট পাচ্ছেন। এর মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেখানে টাকার অভাবে অনেকেই শীতবস্ত্র কিনতে পারছেন না। তাই শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে খরকুটো জ্বালিয়ে তারা শীত নিবারণ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সারাদেশের ন্যায় পদ্মাপাড়ের গোয়ালন্দে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। এতে উপজেলার বেতকা, রাখালগাছি, দেবগ্রাম, চরকর্ণেশোনা গ্রামসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের কয়েক হাজার অসহায় শীতার্ত মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে তারা কষ্ট পাচ্ছেন।

উপজেলার দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আতর আলী সরদার জানান, প্রতি বছর শীতের শুরু থেকে এলাকায় শীতার্তদের মাঝে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কম্বলসহ বিভিন্ন শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। কিন্তু এবার তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এদিকে শীতবস্ত্রের অভাবে এলাকার হতদরিদ্র বিভিন্ন পরিবারের শিশু-বৃদ্ধসহ কয়েক হাজার মানুষ শীতে কষ্ট পাচ্ছেন। আর্থিক কারণে তাদের অনেকে শীতের পোশাক কিনতে পারছেন না। তাই খরকুটা জ্বালিয়ে তারা শীত নিবারণ করছেন। তিনি আরো বলেন, ‘এলাকায় নদীভাঙা অসহায় অনেক মানুষ রয়েছে। একটি কম্বলের জন্য প্রতিদিন তারা ইউপি কার্যালয়ে এসে ভিড় জমাচ্ছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি কম্বল বরাদ্দ না পাওয়ায় আমি তাদের কিছুই দিতে পারছি না। এ কারণে ইউপি কার্যালয়ে আসা শীতার্ত মানুষেরা শীতবস্ত্র না পেয়ে সেখান থেকে তারা খালিহাতে ফিরে যাচ্ছেন।’ তবে, শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের হতদরিদ্র শীতার্ত পারিবারের মাঝে কম্বলসহ বিভিন্ন শীতবস্ত্র বিতরণ করা খুবই প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু সাঈদ মণ্ডল বলেন, ‘উপজেলা এলাকার অসহায় শীতার্ত পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য মাত্র ৪৩০টি কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।’ তবে বরাদ্দ পাওয়া ওই কম্বলগুলো এখনো বিতরণ করা হয়নি। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কম্বলগুলো বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান।