ঝিনাইদহে শিশুদের রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ার প্রকোপ

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৩৬

ফের মৃদু শৈত্য প্রবাহ শুরুর পর ঝিনাইদহে শীত জেঁকে বসেছে। শীতের কারণে ছড়িয়ে পড়েছে ডাইরিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ। এতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রতিদিনই সদর হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতালগুলোতে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে। 

জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। হাসপাতালের মেঝে, করিডোর ও বারান্দায় রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড আছে ৬টি। মঙ্গলবার এ ওয়ার্ডে রোগী ছিল ৩১ জন। এরমধ্যে ২৮ জনই শিশু ও ৩ জন বৃদ্ধ। 

আয়েশা বেগম নামে এক শিশুর মা জানান, ৭ দিন আগে তার ছেলের ডায়রিয়া হয়েছে। ৫ দিন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিচ্ছে। কিন্তু ভালো হয়নি। তাদের গ্রামে আরো শিশুকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে। 

অপর এক রোগীর মা বলেন, ‘হাসপাতালে বেড পাওয়া যাচ্ছে না। তাই অনেকে আউট ডোরে দেখিয়ে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে।’

আরো পড়ুন: ২৮ মাস পর খুলছে কক্সবাজারের জন্ম নিবন্ধন সার্ভার

অপরদিকে শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৫০- ৬০ জন নিউমোনিয়া ও শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত রোগী ভর্তি থাকছে। এ ওয়ার্ডে বেড আছে মাত্র ৮টি। মেঝে ও বারন্দায় রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শৈলকুপা উপজেলা হাসপাতালেও ডাইরিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। 

গতকাল ৮ জন ডাইরিয়ায় আক্রান্ত শিশু ভর্তি ছিল। কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, কালীগঞ্জ ও হরিণাকুন্ডু উপজেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী আসছে বলে জানান সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম। শীত বাড়লে শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগের প্রাদুর্ভার বাড়ে বলে তিনি আরো জানান। 

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ হুমায়ুন শাহেদ বলেন, ‘শীত বাড়ার ফলে রোটা ভাইরাসজনিত ডাইরিয়ার প্রকোপ শুরু হয়েছে।’  শিশুরা পাতলা পায়খানা ও বমি করা শুরু করলে হাসপাতালে আনার পরামর্শ দেন তিনি। এ অবস্থা আরো চলবে বলে তিনি বলেন।    

ইত্তেফাক/এএএম