অভিজ্ঞতা অর্জনের ভ্রমণে...

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৫৮

  মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ

 

পরীক্ষা শেষে ভাইভাও শেষ করেছি একদিন আগে। বিভাগের পক্ষ থেকে শিল্প কারখানা পরিদর্শনে যেতেই এ প্রস্তুতি। ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ যাত্রা। চতুর্থ সেমিস্টারে শ্রম আইন কোর্স পড়ানোর সময় কোর্স শিক্ষক বনানী আফরিন ম্যাম ঘোষণা দিয়েছিলেন পঠিত বিষয়ে সরাসরি জ্ঞান অর্জনের জন্য আমাদের নিয়ে যাবেন কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানে। তারই অংশ হিসেবে বিভাগের সভাপতি ড. সেলিম তোহা স্যারের ব্যবস্থাপনায় আমাদের গন্তব্য কুষ্টিয়া শহরে অবস্থিত বৈদ্যুতিক তার উত্পাদনের অন্যতম প্রতিষ্ঠান বিআরবি ক্যাবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রধান শাখায়। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে গাড়িতে ওঠার সিদ্ধান্ত ছিল। আবাসিক হল ও ঝিনাইদহ শহরে থাকা শিক্ষার্থীরা যাবে ক্যাম্পাস থেকে। আর যারা কুষ্টিয়া শহরে থাকেন তারা যোগ দিবে আমরা পৌঁছলে। আমাদের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আছেন বনানী আফরিন ম্যাম। ম্যামও যুক্ত হবেন কুষ্টিয়া থেকে। সকলের উপস্থিত হওয়ার পর ক্যাম্পাস থেকে ছাড়ল আমাদের বাস।

গন্তব্য খুব বেশি দূরে নয় ক্যাম্পাস থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার। সবার বসনে পরিপাটি পোশাক আর মনে নতুন কিছু জানার আকাঙ্ক্ষা। একঝাঁক জ্ঞানপিপাসু তরুণ প্রাণ নিয়ে বাস এগিয়ে চলছে গন্তব্যের দিকে। বাস চলতে শুরু করতেই জমে উঠল গল্প আড্ডা। এর মাঝে বন্ধু পার্থ অবতীর্ণ হলো কন্ডাক্টরের ভূমিকায়। সবার কাছে গিয়ে পুরো পেশাদার কন্ডাক্টরের মতো ভাড়া চাইতে শুরু করল। ভাড়া না দেওয়া পর্যন্ত চলছে মধুর তর্ক। সবার থেকে দশ বিশ টাকা করে আদায় করেই ছাড়ল সে। এভাবেই হাসি-আনন্দে চলছিল যাত্রা। হঠাত্ করে এক সময় গাড়ি থেমে গেল। বাইরে তাকিয়ে দেখি আমরা গন্তব্যে চলে এসেছি।

বাস থেকে নামলাম বিআরবি ক্যাবল ইন্ডাস্ট্রির প্রধান ফটকে। সেখানে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হলেন ম্যাম ও তার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া মেয়ে জুনাইদা জাহিম। ভ্রমণে  সব থেকে ছোটো  সদস্য সে। সেই সঙ্গে যোগ হলো শহরে থাকা বন্ধুরা। ম্যাম এসে সবাইকে উদ্দেশ্য করে কিছু দিকনির্দেশনা দিলেন। নির্দেশনা মতো আমরা দুই সারিতে সুশৃঙ্খলভাবে ভেতরে প্রবেশ করলাম। ভেতরে ইন্ডাস্ট্রির পক্ষে মহাব্যবস্থাপক শেখ শামসুজ্জামান সাহেব আরেক দফায় নির্দেশনা দিলেন কিভাবে ঘুরব আমরা।

পরিদর্শন শেষে বেরিয়ে আসার সময় প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক আমাদের শৃঙ্খলার প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানালেন ও ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে আমাদেরকে কিছু সরণীকা উপহার দিলেন। সেই সঙ্গে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করলেন। আমরা পরিদর্শন শেষ করে ফিরতে শুরু করল ক্যাম্পাসের দিকে। সবার মুখে শোনা গেল বিআরবি কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার প্রশংসা। গাড়ি এসে থামল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে। সবাইকে অপেক্ষা করতে বলে পার্থ কয়েক মিনিটের জন্য কোথায় যেন হারিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর ফিরল এক প্যাকেট লজেন্স নিয়ে। যাওয়ার পথে ভাড়া বাবদ তোলা সেই টাকা দিয়ে কেনা লজেন্স। মুখে লজেন্স আর একরাশ ভালোলাগা ও আর সারাদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে সবাই ফিরলাম নিজ নিজ কক্ষে।