মাহবুব শরীফ
আপনি হয়ত নতুন একটি ক্যারিয়ার শুরু করতে চাইছেন বা বর্তমান প্রতিষ্ঠানেই নতুন কোনো স্থানে যেতে চাইছেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের দিকে তাকাতে হবে সবার আগে। চাকরি ও আপনার মধ্যে সম্পর্ক অনুধাবন করতে হবে। ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের কারণে নতুনদের চাকরিতে ঢোকার আগে হয়ত এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সময় থাকবে না। কিন্তু অভিজ্ঞ মানুষের চাহিদা সব সময়ই থাকে। এ কারণে যারা কিছুটা অভিজ্ঞ বা কয়েকটি স্থান থেকে চাকরির অফার রয়েছে, তাদের জন্য এসব বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্পর্কেই বিশেষায়িত কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো এই লেখায়।
মনে করুন, এ মুহূর্তে আপনার হাতে বেশ কয়েকটি চাকরির অফার আছে। এ অবস্থায় আপনি কি যেখানে বেতন সামান্য বেশি, সেখানে জয়েন করবেন, নাকি যেখানে ভবিষ্যত্ উন্নতির সুযোগ বেশি সেখানে জয়েন করবেন? নতুন চাকরিতে ঢোকার আগে এমন ধরনের পাঁচটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে।
n আপনার বসের ম্যানেজমেন্ট স্টাইল। অধিকাংশ চাকরিপ্রার্থীই বুঝতে পারেন না যে চাকরিতে তাদের কার্যক্রমের উপর ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলে তার বস। আপনি যদি চাকরিতে জয়েন করার আগে তার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে নেন, সেটা সবচেয়ে ভালো হয়। এর ফলে তা আপনার জব স্যাটিসফেকশনে কাজে আসবে।
n স্যালারি ও বেনিফিটের পূর্ণ বৃত্তান্ত জেনে নিন। আপনার জীবনযাত্রার ব্যয়ের কতটুকু এতে মেটানো সম্ভব হবে তা জেনে নিন। বেতন ছাড়াও যাতায়াত সুবিধা, বাসস্থান, চিকিত্সা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আগেই খবর নিয়ে নিন। যাতায়াত ইত্যাদি বাবদ কোনো অর্থ কেটে নেওয়া হবে কি না, তাও জেনে নিন।
n চাকরিতে কী কী কাজ করতে হবে সেটার বিস্তারিত জেনে নিন। এ কাজ করা আপনার পক্ষে আগ্রহ উদ্দীপক হবে নাকি কঠিন হবে এ বিষয়ে খবর নিয়ে নিন।
n প্রতিষ্ঠানে আগে থেকে কেমন সংস্কৃতি চলে আসছে তা জেনে নিন। প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি তারা সৃজনশীল কাজে কেমন উত্সাহ দেয়, সেটাও জেনে নিন। যদি তারা উত্সাহ দেয়, তাহলে তা প্রাতিষ্ঠানিক নাকি অপ্রাতিষ্ঠানিক তাও জেনে নিন।
n চাকরিতে ভবিষ্যত্ উন্নতির সুযোগ জেনে নিন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নিচের পদে নিয়োগ করে তার পর পদোন্নতির মাধ্যমে উপরের পদের শূন্যস্থান পূরণ করে। কিছু প্রতিষ্ঠান আবার নিচের পদ থেকে পদোন্নতি না দিয়ে উপরের পদগুলোর জন্য আলাদা করেই নিয়োগ দিয়ে থাকে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আপনার উপরের ওঠার বিষয়টি কিন্তু অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
উপরের বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়ার পর আপনার প্রশ্নের উত্তরগুলো আপনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে সেই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ইতিবাচকভাবেই ভাবুন। তবে এটাও মনে রাখবেন, একটি প্রতিষ্ঠানেই যে আপনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সব সুবিধা পেয়ে যাবেন, এমন কিন্তু নয়। সেক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানে মিল বেশি পাবেন, সেটাই হতে পারে আপনার পছন্দের কর্মক্ষেত্র। তবে বেশিরভাগ উত্তর আপনার সাথে না গেলে সেটাতে জয়েন করা আপনার জন্য হিতে বিপরীত হয়ে পড়বে।
এর বাইরেও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিচের গুণগুলো খুঁজে বের করতে চেষ্টা করুন। যে প্রতিষ্ঠানে এসব বিষয় বেশি থাকবে সে প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য তত ভালো হবে।
n কর্মীদের মাঝে বিশ্বাস তৈরি করতে সক্ষম।
n বিভিন্ন অর্জনের কারণে জনগণের কাছে সমাদৃত।
n প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখে।
n কর্মীদের কাছে তারা আছে, এমন একটা ধারণা প্রকাশ করে।
n যারা প্রায়ই বলে, ‘আমরা কীভাবে আপনার সাহায্য করতে পারি?’
n প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সময় দেয়।
n প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণভার দেয় এবং নিজ উদ্যোগে তা চালাতে উত্সাহিত করে।
n নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে এবং শুধু নির্দেশ নয়, কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গিকে মূল্য দেয়।
n সৃষ্টিশীল ধারণাকে উত্সাহিত করে।
n ভিন্ন ভিন্ন ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে উত্সাহিত করে।
n কর্মীদের মাঝে নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠতে উত্সাহিত করে।
n যারা কর্মীদের ঝুঁকি নিতে উত্সাহিত করে। প্রকল্পে কোনো কাজ নতুন পদ্ধতিতে করতে উত্সাহিত করে।
n কর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ আছে।
n পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ আছে।
n অর্থপূর্ণ কাজ করার সুযোগ আছে। এমন সব কাজে উত্সাহিত করে, সেগুলেঅ চ্যালেঞ্জিং এবং যেখানে কাজ করতে কর্মীরা আগ্রহ বোধ করে।
n সামাজিক ও ব্যক্তিগত কাজ করার সুযোগ আছে।
উপরের বিষয়গুলো মাথায় রাখলে চাকরি বদল করার সিদ্ধান্ত অনেকটাই সহজ হবে। যারা কর্মরত রয়েছেন, তারা নিজের প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও এসব গুণাবলীর সন্ধান করতে পারেন। আর তাতে ইতিবাচক ফলাফল মিললে বর্তমান প্রতিষ্ঠানেও থেকে যেতে পারেন। নইলে নতুন অফারগুলোর দিকেই মনোনিবেশ করতে পারেন সহজেই।
