মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
হাতের কাছে যা পেতেন। তার ওপরই ছবি আঁকতেন। হোক সেটা নষ্ট বাল্ব বা অন্য কিছু। বাসায় নানা রকম গাছের বাগান ছিল। গাছের পাতা পড়ে থাকত। হঠাত্ একদিন তিনি ভাবলেন, গাছের ঝরে পড়া পাতার ওপর ছবি আঁকলে কেমন হয়। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। শুকনো নয়, গাছের কাঁচা পাতার ওপর ছবি আঁকলেন। ব্যতিক্রমী ক্যানভাসে ছবি একে জনপ্রিয় হয়েছেন মারগুবা তাবাসসুম ফারিহা। সিদ্বেশরী গালর্স কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষে ইংরেজি সাহিত্য পড়ছেন তিনি। তিনি তিনটি এক্সিবিশনে অংশ নিয়েছেন। ছোটোবেলা থেকেই আঁকাআঁকিতে ফারিহার প্রতিভা ছড়িয়ে পড়ে। তখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়েন। শিল্পকলায় এক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রথম পুরস্কার দেন কবি আল মাহমুদ। পুরস্কার দেওয়ার সময় কবি ফারিহার ছবির প্রশংসা করে বলেন, ছবি আঁকাটা চালিয়ে যেও। ছোটোকালের কবির এই উক্তি আজও ফারিহাকে উত্সাহ যোগায়। মায়ের হাতে ছবি আঁকার হাতেখড়ি হয় ফারিহার। তার মাও ছবি আঁকতেন শখের বসে। আঁকাআঁকির ওপর প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। শুধু কিছুদিন একটা আর্ট স্কুলে পড়েছিলেন তিনি। তিনটির মতো এক্সিবিশনে ফারিহা অংশ নেন। অসংখ্য মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হন। অনেকে ছবি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে বলে তিনি জানান। তবে আপাতত পাতার ওপর ছবি আঁকাটা শখের জায়গায়ই রাখতে চান তিনি। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এ ধরনের শিল্পকর্মের মূল্যায়ন খুব একটা হয় না। অনেকে আলু, পটলের দামে শিল্পকর্ম কিনতে চায়, যা শিল্পীর জন্য অপমানজনক। তবে পাতার ব্যতিক্রমী শিল্পের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে। মানুষ শখ করে বসার ঘরে এসব ছবি রাখে বলে তিনি জানান।
ম্যানিপ্ল্যান্টের পাতার ওপর প্রথম ছবি আঁকেন ফারিহা। এই ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিতেই হইচই পড়ে যায়। ভিন্ন মাধ্যমে এত সুন্দর প্রাণবন্ত ছবি। সবার মন জয় করে নেয়। ফারিহা জানান, অনেকেই শুকনো পাতার ওপর ছবি আঁকে। আমি আঁকি কাঁচা পাতার ওপর। এজন্য পাতাকে কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়। যাতে নষ্ট না হয়ে যায়। ফারিহা ১০০টির মতো ছবি এঁকেছেন। দেশের মধ্যে একমাত্র তিনিই পাতার শিল্পী। পরিবার থেকে তিনি ছবি আঁকার বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা পান বলে জানান। তিনি বলেন, পাতার ছবি একটি ইউনিক জিনিস। কেবল দেশে নয়। দেশের বাইরেও এ ধরনের শিল্পকর্মের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ফারিহা বলেন, এক সময় ভাবতাম যদি শিল্পকলায় কোনো প্রদর্শনীতে আমার একটা ছবি থাকত। এখন শিল্পকলায় প্রদর্শনীতে আমার ছবি শোভা পায়। তখন খুব আনন্দ লাগে। তৃপ্তি লাগে। কেবল ভাব, গল্প মাথায় আসলেই ফারিহা ছবি আঁকতে বসেন বলে জানান। কালিগ্রাফিতেও ফারিহার জুড়ি নেই। ফেসবুকে ওয়ার্ডগ্রাফি তার বিপুল জনপ্রিয়। বাংলা, ইংরেজি, চাইনিজ ভাষায় ক্যালিগ্রাফি করেন তিনি। গানের লাইন, কবিতার লাইন প্রভৃতি সুন্দর করে বিভিন্ন ডিজাইনে লিখেন। ক্যানভাসের ছবি একে জীবিকা নির্বাহ করা সম্ভব। এমনটাই মনে করেন ফারিহা। ভবিষ্যতে তিনি ফেসবুকে পেজ খুলবেন। পাতার ওপর ছবি আঁকার এই ব্যতিক্রমী শখকে বাণিজ্যিক রূপ দেবেন।
