কালচে বর্ণ ধারণ করছে তুলসীগঙ্গা

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩০

পানি সেচকাজের অনুপযোগী

আতিউর রাব্বী তিয়াস, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা 

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের সোনামুখী সেতু থেকে দক্ষিণে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত তুলসীগঙ্গা নদীর পানি কালচে রং ধারণ করেছে। পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। নদীর মাছ মরে যাচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে সেচকাজ।

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগেও তুলসীগঙ্গা নদীর পানি ভালো ছিল। নদীপাড় এলাকার বিপুলসংখ্যক কৃষক তুলসীগঙ্গা নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহার করতেন। জয়পুরহাট চিনিকলের পানিতে তুলসীগঙ্গা নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নদীর পানিতে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের নদীর এই দূষিত পানি সেচকাজে ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।

শান্ত গ্রামের কৃষক হাসান সরদার বলেন, ‘নদীর পানি দিয়ে জমিতে সেচ দিতাম। পানি কালচে হওয়ায় জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। আওয়ালগাড়ী উত্তর বালুপাড়া গ্রামের ইউনুস আলী বলেন, আমার বাড়ি শ্রী খালের ওপরে। দিনেরবেলা চিনিকলের দূষিত পানির গন্ধ একটু কম হয় আর রাত হলে দুর্গন্ধে বাড়ির  ভেতরে থাকা যায় না। নদীরকুল গ্রামের বাসিন্দা বুলু হোসেন বলেন, প্রতি বছর জয়পুরহাট চিনিকলের দূষিত পানি আমাদের এলাকার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্রী খালে ছাড়ে। এতে কয়েক মাস আমাদের বাড়িতে থাকতে কষ্ট হয়। ছেলেমেয়েরা দূষিত পানির গন্ধে বাড়িতে থাকতে চায় না।

আক্কেলপুর উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম বলেন, তুলসীগঙ্গা নদীর পানির অবস্থা খুবই খারাপ। এই পানিতে শুধু মাছ নয়, সাপ, পোকামাকড় কিছুই বাঁচতে পারবে না। এ বিষয়ে তারা জয়পুরহাট চিনিকল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু চিনিকল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্বীকার করেনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জয়পুরহাট চিনিকলের দূষিত বর্জ্যের পানি প্রথমে জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর ইউপির মরা খালে এসে পড়ছে। সেখান থেকে তা আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ এলাকার শ্রী খালে গিয়ে পড়ছে। দুর্গন্ধযুক্ত কালচে রঙের সেই পানি শ্রী খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তুলসীগঙ্গা নদীতে মিশছে।

জয়পুরহাট চিনিকলের এমডি আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, চিনিকলের বর্জ্য নিজস্ব পুকুরে ফেলা হয়। এরপর পুকুর থেকে নালা দিয়ে পানি তুলসীগঙ্গা নদীতে চলে যায়। চিনিকলের পানিতে তুলসীগঙ্গা নদীর পানি দূষিত হয়েছে, তা যাচাইয়ের আগে বলা সঠিক হবে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জয়পুরহাট চিনিকলে ইটিপি স্থাপনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে।