‘বৈশাখী টেলিভিশনে বিদেশি কোনো সিরিয়াল প্রচার করার ইচ্ছে নেই’

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:২০

নতুন বছরের পরিকল্পনা এবং নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় দেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেল বৈশাখী টেলিভিশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক টিপু আলম মিলনের সঙ্গে। আলোচনার উল্লেখযোগ্য অংশটুকু তুলে ধরা হলো আনন্দ বিনোদনের পাঠকদের জন্য। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন খালেদ আহমেদ

নতুন বছরে বৈশাখী টেলিভিশনের অনুষ্ঠান ভাবনার কথা জানতে চাই।

নতুন বছর টোয়েন্টি টোয়েন্টি। বৈশাখী টেলিভিশনেরও টার্গেট বিশে বিশ। কারণ এ বছরই শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উত্সব। ‘মুজিববর্ষ’ নামে এ উত্সব চলবে পৃথিবীর ১৯৫টি দেশে। আমরা এই জন্য গর্বিত যে জাতির পিতার এ আয়োজনে শরিক হতে পারছি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিববর্ষ নিয়ে বৈশাখী টেলিভিশনের আয়োজনে থাকছে অসংখ্য অনুষ্ঠান। তার মধ্যে বছরব্যাপী থাকছে প্রতিদিনের তথ্যচিত্র ‘বঙ্গবন্ধু আর্কাইভ’, ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে প্রতিদিনের তথ্যচিত্র ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ’, সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া নতুন বছরে শুরু হয়েছে পারিবারিক সম্পর্ক ও দ্বন্দ্ব নিয়ে নির্মিত ধারাবাহিক নাটক ‘বউ শাশুড়ি’। অল্প সময়েই ইউটিউবসহ সবক্ষেত্রেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে নাটকটি। প্রচারের অপেক্ষায় আছে নতুন আরো দুটি ধারাবাহিক ‘একটি গ্রাম একটি শহর’, অপরটি ‘অ্যাডাল্ট এইটিন্থ’। শিশুদের নির্মল বিনোদন প্রদানের পাশাপাশি শিক্ষাদানের জন্য প্রচারিত হচ্ছে কার্টুন সিরিয়াল ‘ড্রিমবেবি মংওয়া’। আরো প্রচারিত হচ্ছে নিয়মিত ধারাবাহিক নাটক  ‘রসের হাঁড়ি’, ‘চাপাবাজ’, ‘শান্তিপুরীতে অশান্তি’, ‘ছায়াবিবি’। পাশাপাশি বিগত দিনের মতো আগামীতেও নতুন নতুন শিল্পী তৈরির উদ্যোগও অব্যাহত রাখতে চাই।

আপনি কি মনে করেন, আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোয় কনটেন্টের ঘাটতি রয়েছে?

দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোয় কনটেন্টের কোনো ঘাটতি আছে বলে আমি মনে করি না। তবে সুপরিকল্পিত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেই এমনটি হচ্ছে। আমাদের দেশের অনেক শিল্পী আছেন যারা প্রতিবেশী দেশ ভারতেও আজ সমান জনপ্রিয়। অভিনেত্রী জয়া আহসান, অভিনেতা শাকিব খান, ফেরদৌস কিংবা সেখানকার নানা রকম রিয়েলিটি শো ‘মিরাক্কেল’ এবং ‘সারেগামাপা’র মাধ্যমে অনেকেই আজ উঠে এসেছেন। কিন্তু আমাদের এখানে সেভাবে চোখে পড়ছে না। কারণ এসব আয়োজনের জন্য সেভাবে কোনো পৃষ্ঠপোষকতা নেই। এর অবশ্য উল্লেখযোগ্য কারণও আছে। ওদের মতো আমাদের বিজ্ঞাপনের বাজারটা অত বড়ো নয়। চ্যানেল যে হারে বেড়েছে, স্পন্সর কোম্পানির বাজেট সেভাবে বাড়েনি। আগে টিভি চ্যানেলের সংখ্যা কম থাকার কারণে বাজেট ছিল পর্যাপ্ত। ফলে ভালো কনটেন্টের নাটক কিংবা অনুষ্ঠান ছিল চোখে পড়ার মতো। কনটেন্টের অভাব কখনোই ছিল না।

ইউটিউবের জনপ্রিয়তা এদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাহলে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো কি আরেকটি প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ছে?

অবাধ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যে যার মতো নেট থেকে ইউটিউবে যে কোনো কনটেন্ট দেখে নিতে পারছে। সেসব কনটেন্টে আবার বিজ্ঞাপনের কোনো ঝামেলা নেই। কিন্তু টেলিভিশনে কোনো কনটেন্ট চালাতে গেলে প্রচুর পরিমাণ বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করতে হয়। যে কারণে তারা ইউটিউবমুখী হচ্ছে। কিন্তু সেসব কনটেন্টের বেশির ভাগই পুরোনো। তরতাজা অনুষ্ঠান দেখার জন্য টেলিভিশনের বিকল্প নেই। প্রতিবেশী দেশ ইচ্ছে করলেই এই অতিমাত্রায় বিজ্ঞাপন এড়িয়ে চলতে পারে। কারণ পে-চ্যানেলের মাধ্যমে তাদের প্রচুর রেভিনিউ আসে। আমাদের চ্যানেলগুলো পে-চ্যানেলের আওতায় এলে অতিমাত্রায় বিজ্ঞাপনের ঝক্কি আর পোহাতে হবে না। সরকারও পে-চ্যানেলের ব্যাপারে দ্রুত একটা উদ্যোগ নিচ্ছে। তা বাস্তবায়ন হলে সরকার যেমন রেভিনিউ পাবে, টিভি চ্যানেল মালিকরাও লাভবান হবে এবং দর্শকরাও ভালো অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবে। 

বিভিন্ন মোবাইল টেলিকম প্রতিষ্ঠান অ্যাপস তৈরি করে তার মাধ্যমে কনটেন্ট প্রচার করছে, এটাকে কীভাবে দেখছেন?

এটাকে ভালোভাবে দেখার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। সরকারি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবেই এমনটি হচ্ছে। অচিরেই বিষয়টি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আমি জেনেছি। মাননীয় তথ্যমন্ত্রী এমন আভাসই দিয়েছেন। সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে তারা ইচ্ছে করলেও তা আর করতে পারবে না। তাছাড়া টেলিকম কোম্পানিগুলোর কাজ আসলে এটা না। তারা কেন এমনটি করছে, তা বলা মুশকিল।

টেলিভিশন চ্যানেলোতে চলছে একধরনের দুরবস্থা। এই দুরবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

দুরবস্থা শব্দটি নিয়ে আমার ভীষণ আপত্তি। দুরবস্থা হলে শত শত লোকবল নিয়ে চ্যানেলগুলো চলছে কী করে, বেতনভাতা দিচ্ছে কী করে? অতীতে যেমন আমাদের চ্যানেলগুলোর দুরবস্থা ছিল না, এখনো নেই। বিজ্ঞাপনের বড়ো বাজেট নেই বলেই ভালো কনটেন্টের ব্যাপারে চ্যানেলগুলো হয়তো কম্প্রোইজ করছে। তবে সরকার ঘোষিত পে-চ্যানেল নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে টিভি চ্যানেলগুলো অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

বর্তমানে বাংলায় ডাবিং করে বিদেশি কনটেন্ট টেলিভিশনে প্রচার করা হচ্ছে, বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

বৈশাখী টেলিভিশনের বিদেশি কোনো সিরিয়াল প্রচার করার ইচ্ছে অতীতেও যেমন ছিল না, ভবিষ্যতেও নেই। পৃথিবীর একটিমাত্র দেশ যারা রাজপথে রক্ত দিয়ে নিজের মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, তা হলো বাংলা। বাংলা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা। বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আমাদের চ্যানেলের নামটিও বাংলায় রাখা ‘বৈশাখী’। নামের যথার্থতা প্রমাণের জন্য বিজয়ের মাসে যাত্রার পর থেকেই বাংলা সংস্কৃৃতি, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিচল থেকেছি। এ ধারা অব্যাহত রাখতে চাই আগামী দিনেও।

ছবি তন্ময় মির্জা