শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় আর্দ্রতা হারিয়ে ত্বক হয়ে পড়ে নিষ্প্রাণ এবং মলিন। তৈলাক্ত কিংবা শুষ্ক যেকোনো ধরনের ত্বক হতে পারে লাবণ্যহীন। আর রুক্ষ, খসখসে ত্বক থেকে তৈরি হয় নানান চর্মরোগ। একজিমা, জেরোটিক ডার্মাটাইটিস, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, সেবোরিক ফলিকুলাইটিস, পায়ের গোড়ালি ফাটা ইত্যাদি চর্মরোগে আক্রান্ত হতে পারে শীতের এই সময়ে। তাই ত্বক ও চুলের যত্নে মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম।
শীতে ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ওয়াটার কিংবা ওয়েল বেজড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে প্রতিদিন। এছাড়া ত্বক পরিষ্কার রাখতে স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে সপ্তাহে অন্তত একবার। গোসলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। এছাড়া গোসলে খুব কম সময় নিতে হবে। এতে ত্বক আর্দ্রতা হারাবে না। গোসলের পরপরই শরীরে যতটা সম্ভব গ্লিসারিন, অলিভ অয়েল কিংবা নারকেল তেল ব্যবহার করতে হবে। চুলের যত্নে নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। এতে ময়লা জমে খুশকি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এছাড়া হট অয়েল ম্যাসাজ চুলকে ঝলমলে রাখতে সাহায্য করে। শীতে হাত ও পায়ের যত্নে বিশেষ লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। অনেক সময় পায়ের গোড়ালি ফেঁটে যেতে পারে। শীতে পায়ের যত্নে অলিভ অয়েল বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া খোলা জুতা না পড়ে নরম বন্ধ জুতা পরাই ভালো।
এছাড়া ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে নিয়মিত আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করা খুবই প্রয়োজন। এতে ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র থাকবে। তবে কোনো চর্মরোগের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
