গ্রাহকদের টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত্ করার অভিযোগে জেলার চরবাটা সুবর্ণচর শাখার সাবেক ম্যানেজার (বর্তমানে ফেনীর দাগনভূঁইয়া শাখায় কর্মরত) মো. নূর নবী চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে জেলা দুদক। অপরাপর কর্মকর্তা ও দালালদের যোগসাজশে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া ঋণবন্ড তৈরি করে ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাত্ করে চক্রটি। এ পর্যন্ত ৫১ জন গ্রাহক প্রতারণার শিকার হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে নূর নবী চৌধুরীকে জেলা শহর মাইজদী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে জেলা ও দায়রা জজ সালেহ্উদ্দিন আহমেদ তার জামিন না-মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় গতকাল নূর নবী চৌধুরীসহ সাত জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে দুদক। বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদ। তিনি জানান, নূর নবী চৌধুরী চরবাটা শাখার ম্যানেজারের দায়িত্ব পালনকালে ২০১০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দালালের মাধ্যমে ঋণের আবেদন সংগ্রহ করে ভুয়া ঋণবন্ড তৈরি করে ভুয়া ঋণ বিতরণ দেখিয়ে ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা তুলে আত্মসাত্ করেন। তিনটি মামলাতেই ব্যাংক ম্যানেজার নূর নবীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আদালতে দায়েরকৃত প্রথম মামলায় ১৬ জন গ্রাহকের ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় দালাল চরবাটা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আলেয়া বেগম, দ্বিতীয় মামলায় ১৪ জন গ্রাহকের ৭ লাখ টাকা আত্মসাতে জড়িত দুই দালাল চরবাটার ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন ভূঁইয়া ও চরকচ্ছপিয়ার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম এবং তৃতীয় মামলায় ২১ গ্রাহকের ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঐ ব্যাংক শাখার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেছার আহমেদ, সিনিয়র কর্মকর্তা আবুল কাশেম (বর্তমানে নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী শাখায় কর্মরত) ও অফিসার আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
