ভুয়া পরোয়ানা বলে গ্রেফতার

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যই নয়, কিছু আইনজীবীও জড়িত আছেন :হাইকোর্ট

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৪৮

শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যই নয়, ভুয়া পরোয়ানা সৃজনের সঙ্গে কিছু আইনজীবীও জড়িত আছেন বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেন, এ কারণে ভুয়া পরোয়ানায় গ্রেফতার হয়ে নাগরিকদের হয়রানির বিষয়টি বন্ধ হচ্ছে না। এ সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ মন্তব্য করেন।

এর আগে ভুয়া পরোয়ানায় গ্রেফতার হয়ে ৬৮ দিন কারাগারে থাকা আওলাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতে বলেন, ভুয়া পরোয়ানা সৃজনের সঙ্গে কারা জড়িত সেটা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সিআইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি বলেন, এই ভুয়া পরোয়ানা সৃজনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য জড়িত আছেন। ঢাকার নিম্ন আদালত থেকে প্রায়শই এই ভুয়া পরোয়ানা বের হয়। এটা বন্ধ হচ্ছে না। তখন হাইকোর্ট বলেন, কীভাবে বন্ধ হবে? এর সঙ্গে তো কিছু আইনজীবীও জড়িত আছেন।

এরপরই আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রোগ্রাম অফিসার আওলাদ হোসেন জানান, সাভারে এক লোকের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। অনেকবার চেষ্টা করে ঐ ব্যক্তি আমার জমি দখল করতে পারেনি। হয়তো সেই বিরোধের সূত্রে এ ধরনের ভুয়া পরোয়ানায় আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত বলেন, সিআইডি পুলিশ আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে? আওলাদ বলেন, আমি এবং আমার পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। এরপরই হাইকোর্ট সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়ে রবিবার পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন।

পৃথক পাঁচটি মামলায় ভুয়া পরোয়ানা দিয়ে আওলাদকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তার স্ত্রী। হাইকোর্ট তাকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে ভুয়া পরোয়ানা সৃজনের সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু সিআইডি গতকাল পর্যন্ত ঐ প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করেনি।