পৃথক সংঘর্ষে ১২ জন আহত
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দু’পক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মারপিট, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচারণার মাইক ভাঙচুর ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পৃথক স্থানে কমপক্ষে আট ঘটনায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের সদর হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়পুরে একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকেই পরিবেশ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। গত রবিবার চরআবাবিল এলাকার এক বিএনপির নেতাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। একই দিন বিকালে উপজেলার ৬নং কেরোয়া ইউনিয়নের জোড়পোল এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদ ইসলাম পাপুলের প্রচার মাইক ভাঙচুর করা হয়। এসময় প্রচার কর্মীসহ দুইজন আহত হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূইয়ার সমর্থকরা কুচিয়ামারা গ্রামে প্রচারে নামলে তদের ওপর হামলা চালানো হয়। এসময় চারজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এদিকে একই দিনে একই ইউনিয়নের পূর্ব চরবংশী এলাকার বিএনপির সমর্থক দুলাল কবিরাজের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে তাকে পিটিয়ে গায়ে হলুদ ও মরিচের লাগিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার রাতে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের ফের স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদ ইসলাম পাপুলের দুটি প্রচার মাইক ভাঙচুর করে একদল দুর্বৃত্ত। এছাড়া রয়েছে প্রতিপক্ষের প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ বহু অভিযোগ।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের মহাজোট প্রার্থী মোহাম্মদ নোমান বলেন, বিএনপি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ধানের শীষে ভোট না দিলে তারা নির্বাচনের পর নিরীহ লোকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। নিজেরা মারপিট করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। মিথ্যাচার করা তাদের পুরনো অভ্যাস। এদিকে বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূইয়া বলেন, নির্বাচনী এলাকা কেরোয়া, চরবংশী, চরআবাবিল ও বামনীসহ আরও কয়েকটি ইউনিয়নের বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা ও যারা পোস্টার লাগাচ্ছে তাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাদের হামলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রায়পুর থানার (ওসি/তদন্ত) সোলাইমান চৌধুরী হামলা ও মাইক ভাঙচুরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র ও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে উভয়পক্ষ মীমাংসা হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ কঠোর অবস্থায় রয়েছে। রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পি রানি রায় বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের দু’তিনটি অভিযোগ পেয়েছি। আমি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। অন্য বিষয়গুলো কেউ এখন আমাকে জানায়নি।
