কালিয়া (নড়াইল) সংবাদদাতা
নড়াইল-১ আসনে ভোটের মাঠে প্রচার প্রচারণা যেনো উত্সবমুখর হয়ে উঠেছে। এই আসনে এবার কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন নিজ নিজ দলের পক্ষে। আসনটিতে দুই জোটসহ বিভিন্ন দলের পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। তার মধ্যে মহাজোট প্রার্থী বর্তমান এমপি বিশ্বাস মো. কবিরুল হক মুক্তি ও ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম রয়েছেন ভোটারদের আলোচনায়।
প্রবীণ ও নবীন ভোটরদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেয়া বিশ্বাস মো. কবিরুল হক মুক্তি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে এসে প্রথমে কালিয়া পৌরসভার দুইবার মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দলের বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে সবাইকে টপকে এমপি নির্বাচিত হন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসাবে ভোটের মাঠে তিনি রয়েছেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। অপরদিকে গত কয়েকবার বিএনপির প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে লড়াইকারী এবারে ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপির একক প্রার্থী হিসাবে প্রচারে নেমেছেন বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। তার দলের নেতাকর্মীদের দাবি আওয়ামী লীগের দূর্গ দখলে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন।
এই দুই প্রার্থীর বাইরে ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ খবির উদ্দিনও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় শোভা পাচ্ছে হাত পাখার পোস্টার। এর বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীর প্রচারণা চোখে পড়েনি। মহাজোট প্রার্থী বিশ্বাস মো. কবিরুল হক মুক্তি বলেছেন, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছিলাম। গত দশ বছরে মানব সেবাসহ এলাকার উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি। তিনি এবারও বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আর বিএনপি প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে তিনিই জয়লাভ করবেন। কারণ তার দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। কাজেই তিনি জয়ের জন্য আশাবাদী। এই আসনে অন্য যারা ভোটের মাঠে রয়েছেন তার হলেন জাতীয় পার্টির মো. মিল্টন মোল্যা (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ খবির উদ্দিন (হাত পাখা) এবং এনপিপির মো. মনসুরুল হক (আম)।
