ফোমাইট থেকে সাবধান

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৮

ফোমাইট শব্দের সঙ্গে আমরা কম-বেশি প্রায় সবাই পরিচিত। ফোমাইট হলো এমন সব জড় পদার্থ যেগুলোতে রোগ-জীবাণু সাময়িকভাবে লেগে থাকে এবং সময় সুযোগ মতো সেখান থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। খাবার ও পানি জড় পদার্থ হলেও এগুলোকে ফোমাইট হিসেবে ধরা হয় না। আমাদের চারপাশে অসংখ্য ফোমাইট রয়েছে। যেমন—বই, খাতা, কলম, পেন্সিল, মোবাইল ফোন সেট, কম্পিউটার-ল্যাপটপের মাউস, টিভির রিমোট, থালা-বাসন, গ্লাস, কাপ-প্লেট, চামচ, টাকা-পয়সা, কাপড়-চোপড়, পানির ট্যাপ, দরজার ছিটকিনি, ঘটি, বাটি, পানের বাটা, চুনের কৌটা—কত কী-ই না আছে উদাহরণের শেষ নেই। সাধারণত আমাদের হাতের স্পর্শ, হাঁচি, কাশি, থুতু, ইত্যাদির মাধ্যমে এসব জড় পদার্থের গায়ে নানান রোগের জীবাণু লেগে যায়। এসব ফোমাইটে রোগ জীবাণু কয়েক মিনিট থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তারপর সেখান থেকে প্রবেশ করতে পারে মানুষের শরীরে।

যেসব রোগ হাঁচি-কাশি, মল বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়,

সেসব রোগ ফোমাইটের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, চোখ ওঠা, ডায়রিয়া, সুতাকৃমি, আমাশয়, হিপাটাইটিস-এ, ডিপথেরিয়া, টাইফয়েড, ইত্যাদি অনেক রোগ এসব ফোমাইটের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। আমাদের চারপাশে অসংখ্য ফোমাইটের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে আমরা ফোমাইট-বাহিত রোগের সমস্যার পরিধিটা আন্দাজ করতে পারি। একটু সচেতন হলেই এসব রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রথমত আমাদের চেষ্টা করতে হবে আমরা যেন এসব জড় পদার্থের গায়ে রোগজীবাণু না লাগাই, এসব জড় পদার্থকে ফোমাইটে রূপান্তরিত না করি। যেসব ফোমাইট ধুয়ে মুছে পরিষ্কার রাখা যায়, সেগুলো ধুয়ে মুছে পরিষ্কার রাখতে হবে। আর ফোমাইটগুলো স্পর্শ করার পর আমাদের হাত ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। সচরাচর হয়, এমন সব সংক্রামক রোগপ্রতিরোধের জন্য হাত ধোয়া একটি অত্যন্ত সহজ, সস্তা এবং সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। এসব উপায়ে আমরা ফোমাইট-বাহিত রোগগুলো প্রতিরোধ করতে পারি।

 

nঅধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ্

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ,

কমিউনিটি বেজড মেডিক্যাল কলেজ, ময়মনসিংহ