রাখাইনে সেনা অভিযান, ফের রোহিঙ্গা ঢলের আশঙ্কা

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩০

মিয়ানমারে দুই আদিবাসী বৌদ্ধ মাছ ধরতে গিয়ে ফিরে না আসা ও দুই দিন পর গলাকাটা অবস্থায় তাদের লাশ উদ্ধারের অজুহাতে রাখাইনে ফের অভিযান শুরু করেছে মিয়ানমার সেনা, বিজিপি ও উগ্রুপন্থি রাখাইন জনগোষ্টী। তারা পাড়া মহল্লায় গিয়ে নিরীহ রোহিঙ্গাদের নির্যাতন ও ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার জের ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশ কয়েকজন মাঝির সাথে আলাপ করা হলে তারা বলেন, প্রাণ নাশের আশংকায় অবশিষ্ট রোহিঙ্গারাও  যেকোন সময়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসতে পারে। ফলে ফের শুরু হতে পারে রোহিঙ্গা ঢল।

এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ঘুমধুম কোনার পাড়া রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, আদিবাসী বৌদ্ধ জনগোষ্টীরা পরিকল্পিত একটি ঘটনার মাধ্যমে মংডু কোয়ারবিল গ্রামে হামলা চালিয়ে নিরীহ রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন শুরু করেছে। কোয়ারবিল থেকে ১০ মাইল পূবে বুচিদং এলাকায় মিয়ানমার সেনারা ৫ টি বাড়ী পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও বিচ্ছিন্ন ভাবে রাখাইন সম্প্রদায়ের সশস্ত্র যুবকেরা বাড়ীতে, পথেঘাটে রোহিঙ্গাদের মারধর করছে।

রোহিঙ্গা নেতারা জানান, মঙ্গলবারে রাখাইনের পিয়ু মা ক্রিক নামক স্থানে মাছ ধরতে গিয়ে দুই আদিবাসী বৌদ্ধ নিখোজ হয়ে যায়। দুই দিন পর তাদের লাশ উদ্ধারের ঘটনার জন্য সেনারা রোহিঙ্গাদের দায়ী করে অভিযান শুরু করেছে। ফলে বাাংলাদেশ সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুকিতে পড়তে পারে এবং রাখাইনে থাকা অবশিষ্ট রোহিঙ্গারাও এদেশে পালিয়ে আসতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন দুই বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আসাদুজ্জামান চৌধুরী জানান, মিয়ানমার সেনারা শুধু রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামে অভিযান চালাচ্ছে তা নয়। তারা সেদেশে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। ফলে আতংকে অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা এদেশে পালিয়ে আসার প্রস্তুতি নিতে পারে। সে জন্য সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।