মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্বে এবার পদত্যাগ করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে এখনই প্রশাসন থেকে বিদায় নিচ্ছেন না তিনি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রশাসন ছাড়বেন। খবর বিবিসি’র
যে কারণে পদত্যাগ
ধারণা করা হচ্ছে, সিরিয়া এবং আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ম্যাটিস। সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণার একদিন পর বৃহস্পতিবারই পদত্যাগপত্র দেন ম্যাটিস। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আফগানিস্তান থেকে সাত হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। জানা গেছে, সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ আসলে ম্যাটিস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতামতকে সমর্থন করেননি। তিনি বলেছিলেন, এই কৌশল আমেরিকার জন্য ভাল হবে না। এছাড়া রাশিয়া এবং ন্যাটো ইস্যুতেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব চলছিল।
পদত্যাগপত্রে যা বলেছেন
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদত্যাগপত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে মিত্রদের শ্রদ্ধা এবং আমেরিকার প্রভাব সম্পর্কে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনার এমন একজন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নেওয়ার অধিকার আছে যিনি আপনার মতামতের সঙ্গে তালমেলাতে সক্ষম হবেন। তাই আমার অবস্থান থেকে আমার পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করি’। পদত্যাপত্রে ম্যাটিস সিরিয়ার কথা উল্লেখ করেননি। তিনি ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের কথাও জানিয়েছেন।
প্রতিক্রিয়া
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ফ্লোরিডা সিনেটর মার্কো রুবিও বলেছেন, ম্যাটিসের পদত্যাগ আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশ বিপদের দিকে যাচ্ছে এবং মিত্ররা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মার্কো রুবিও ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাইমারিতে ট্রাম্পের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। রিপাবলিকান নেতা ম্যাককোনেল ম্যাটিসের পদত্যাগকে ভালভাবে নেননি। তিনি বলেছেন, আমাদের শত্রু-মিত্র চিন্নিত করতে হবে। আরব বিশ্বজুড়ে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের খবর পত্রপত্রিকাগুলোতে উল্লেখযোগ্য স্থান পেয়েছে। অনেক ভাষ্যকারই এই সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করেছে ‘বিস্ময়কর এবং স্তম্ভিত’ হবার মতো বলে। লন্ডন ভিত্তিক দৈনিক আল-আরব এটাকে বলেছে, তুরস্ক, ইরান রাশিয়া এবং আসাদের বিজয়। আল-কুদস্ আল-আরাবি সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে : আমেরিকান সেনা প্রত্যাহারের ফলে সৃষ্ট শূণ্যস্থান পূরণ করার চেষ্টা করবে রাশিয়া, তুরস্ক এবং ইরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বর্হিশক্তিগুলো।
