বাঁশখালীতে জাপা’র সমাবেশে গুলি

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৪

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী (লাঙ্গল প্রতীক) মাহামুদুল ইসলাম চৌধুরীর গণসমাবেশে হামলা, গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার চাম্বল এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। মোট আহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মাহামুদুল ইসলাম চৌধুরী (লাঙ্গল প্রতীক) চাম্বল বাজার সংলগ্ন এলাকায় গণসমাবেশের আয়োজন করেন। উপজেলা সদর থেকে সমাবেশ স্থলে যাওয়ার পথে চাম্বল বাজারের উত্তর পার্শ্বে এসে পৌঁছলে হঠাত্ দুর্বৃত্তের দল মাহামুদুল ইসলাম চৌধুরীর গাড়িসহ নেতাকর্মীদের সমাবেশে যেতে বাধা দেয়। অর্ধশতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে দুর্বৃত্তের দল। এতে স্থানীয়দের মাঝে আতংকের সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মাহামুদুল ইসলাম চৌধুরীকে পুলিশ পাহারায় সমাবেশ স্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।

কিন্তু সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার শেষ মুহূর্তে আবারো সমাবেশস্থল লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে সাধারণ পথচারীরা দিকবিদিক ছুটতে থাকে। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট ও গাড়ি চলাচল। দুর্বৃত্তদের গুলি ও হামলায় আহত হয় অর্ধশতাধিক। হামলায় গুরুতর আহতদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মাহামুদুল ইসলাম চৌধুরীর কর্মী মোঃ কফিল উদ্দীন (৪০), রমিজ উদ্দীন (৩২), সিরাজ মিয়া (৪০) এর নাম পাওয়া গেলেও অপরাপর আহতদের নাম এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহামুদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে। আমি ঘটনাটি তাত্ক্ষণিকভাবে উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ও ওসিকে অবহিত করেছি।’ এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানার ওসি (তদন্ত) কামাল উদ্দীন জানান, ‘সমাবেশে হামলার ঘটনাটি আমাদেরকে অবহিত করলে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।’

এদিকে গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনায় ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। নির্বাচনকে ঘিরে আর কি ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়েও আতঙ্কে আছে তারা।