বাংলা প্রথমপত্র
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, সিনিয়র শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ
পিলখানা, ঢাকা
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও। বাংলা প্রথমপত্রে সচরাচর ভালো করার জন্য আমরা যে বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি তা হলো : খাতার সৌন্দর্য রক্ষা, বানানের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ, বাক্যগঠনে ও উপস্থাপনে, অপ্রয়োজনীয় শব্দ বা ভাষা বর্জন, কাটাকাটি যতদূর সম্ভব না করা, অপ্রাসঙ্গিক বিষয় উপস্থাপন থেকে বিরত থাকা, প্রশ্নোত্তরে স্বচ্ছতা থাকা বাঞ্চনীয়, প্রয়োজনীয় মার্জিন বা মার্জিনের জায়গা রাখা বাঞ্চনীয়, সৃজনশীলের ক্ষেত্রে উদ্দীপক ও পাঠ্য বইয়ের সমন্বয় সাধন, সর্বোপরি গঠনমূলক বিশ্লেষণ তোমার আত্ম বিশ্বাসে লেখলেই ভালো করা যাবে। বাংলা বিষয় নিয়ে অহেতুক মানসিক অশান্ি ্তমনে পুষে রাখবে না।
এখন, আমরা সৃজনশীল প্রশ্নে ভালো করার কিছু কৌশল জানব :
সৃজনশীল অংশ : মোট প্রশ্ন থাকবে ১১টি। উত্তর করতে হবে ০৭টি। মোট নাম্বার ৭০। ক বিভাগ গদ্যাংশ থেকে ০৪টি; খ বিভাগ কবিতাংশ থেকে ০৩টি;সহপাঠ গ বিভাগ উপন্যাস থেকে ০২টি এবং ঘ বিভাগ নাটক থেকে ০২টি করে সৃজনশীল থাকবে। ক বিভাগে গদ্যাংশ থাকবে যেখান থেকে কমপক্ষে ০২টি উত্তর করতে হবে এবং খ বিভাগ থেকেও ০২টি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। গ ও ঘ বিভাগ হতে কমপক্ষে ০১টি করে মোট ০২ টি প্রশ্নের উত্তরসহ মোট ৭টি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। প্রতি প্রশ্নের মান ১০। একই উত্তরে সাধুও চলিত ভাষার ব্যবহার করা যাবে না।
সৃজনশীল একটি কৌশলগত প্রক্রিয়া তাই এখানে ভয়ের কিছুই নেই। ভয় বা ভীতি নয়, মানসিক মনোবল তোমাকে পরীক্ষায় ভালো করাবে। তোমরা জানো, সৃজনশীল প্রশ্নে পাঠ্যবইয়ের পাঠ সম্পর্কিত অন্য একটি চমত্কার উদ্দীপক থাকে; যাকে দৃশ্যকল্প বা অনুচ্ছেদও বলা হয়ে থাকে। অনুচ্ছেদের মূলভাবনা থেকেই জ্ঞানভিত্তিক ১০ নাম্বারের চারটি প্রশ্ন সাজানো হবে যেগুলোহলো : (ক) জ্ঞানমূলক (১), (খ) অনুধাবনমূলক (২), (গ) প্রয়োগমূলক (৩) ও (ঘ) উচ্চতর দক্ষতামূলক (৪)। কিন্তু তোমাদের জানতে হবে এই ১০ নাম্বারের মধ্যে সৃজনশীল অংশে ১০টি অংশ রয়েছে। চলো জেনে নিই সৃজনশীল সম্পর্কে :
ক. জ্ঞানমূক অংশ : এ জাতীয় প্রশ্ন স্মৃতি নির্ভর। এখানে পাঠ্যের বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। প্রশ্নে যা দেখা যায় তাহলো : কে, কখন, কোথায়, কী ইত্যাদি। প্রদত্ত নাম্বার-১। পাঠ্য বই হতে এক কথায় বা এক বাক্যে সঠিক উত্তর দিবে;এখানে কোনো বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণের দরকার নেই।
খ. অনুধাবনমূলক : এ স্তরকে জেনে, বোঝে লেখার স্তর বলা হয়। তুমি যা পড়েছো মূলবইয়ের সেই ভাবটি এখানে ব্যাখ্যা করতে পারো কিনা বা বিষয়টি সম্পর্কে তোমার ধারণা কেমন তা চাওয়া হয়। প্রদত্ত নাম্বার-২ (১+১) অংশ দুটি : জ্ঞানমূলকে-১ চিন্তন বিশ্লেষণে-১। প্রশ্নে যা চাইবে এক কথায় উত্তরের আসলবস্তু জ্ঞান আকারে লেখবে আর,দ্বিতীয় প্যারাতে বিশ্লেষণ করে সেটা সর্বোচ্চ ৩-৪ বাক্য হলে ভালো হয়। এখানে কেনো, কী বোঝ, কথাটি ব্যাখ্যা করো, কথাটির অর্থ কী, কী বোঝানো হয়েছে ইত্যাদি ভাষায় প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়। অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় আলোচনা না করে সরাসরি উত্তরের মূল উত্তর ও তার ব্যাখ্যা করাই শ্রেয়।
গ. প্রয়োগমূলক অংশ : এ স্তর হলো অনুধাবনলব্ধ বিষয়টি তুমি নতুন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে পারো কিনা তার কৌশল বিশেষ। এ জাতীয় প্রশ্নে তুমি তোমার অর্জিত জ্ঞান ও অনুধাবনকে কোনো একটি নির্দিষ্ট অবস্থার সাথে সম্পর্কগত আলোচনা করার প্রয়োগিত ক্ষমতার প্রকাশ ঘটাতে পারো। উদ্দীপক ও মূলবইয়ের সম্পর্ক নির্ধারণ ও তা জেনে বোঝে ব্যাখ্যা করার অনন্য সুযোগ রয়েছে এখানে। এখানে,প্রদত্ত নাম্বার-৩ (১+১+১) এখানে তোমাকে তিনটি অংশ বা প্যারা করে লিখতে পারো। অংশগুলো হলো : * উত্তরের শুরুতেই প্রশ্নে চাওয়া মূল উত্তর নির্দেশ করবে *দ্বিতীয় প্যারাতে প্রশ্ন মোতাবেক উদ্দীপক ও পাঠ্যের সম্পর্কগত বিষয় ধরে চিন্তন শক্তি ব্যাখ্যা করবে * তৃতীয় প্যারাতে উদ্দীপক ও মূলপাঠ্যের বা মূলপাঠ্যের সাথে উদ্দীপকের সম্পর্কগত আলোচনা করবে। মনে রাখা দরকার প্রয়োগ হলো উদ্দীপকের পরিস্থিতি ও জ্ঞানের আলোকের সন্ধান বিশেষ অর্থাত্ উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের কোন দিকটি সামঞ্জস্যপূর্ণ তা খুঁজে বের করতে হবে। এই সামঞ্জস্যপূর্ণটিকে ধারনা পূর্বক ব্যাখ্যা করবে এবং পরে পাঠ্যের আলোকে মূল বিষয়টি তুলনামূলক আলোচনা করবে। পরিশেষে একটি যুক্তিসংগত মন্তব্য উত্তরটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ঘ. উচ্চতরদক্ষতামূলক :এ স্তরকে বলা হয় বিষয়ভিত্তিক সংশ্লেষণ, বিশ্লেষণ বা মূল্যায়ন করার ক্ষমতা। এ জাতীয় প্রশ্নে তোমাকে চিন্তন দক্ষতার উচ্চতর ভাবনার প্রতিফলন প্রকাশ করতে হবে। এখানে, প্রদত্ত নাম্বার-৪ (১+১+১+১) এখানে তুমি চারটি অংশ বা প্যারা করে লিখতে পারো। অংশগুলো হলো : * উত্তরের শুরুতেই প্রশ্নে চাওয়া মূল উত্তর নির্দেশ করবে * দ্বিতীয় প্যারাতে প্রশ্ন মোতাবেক উদ্দীপক ধরে চিন্তন শক্তি ব্যাখ্যা করবে * তৃতীয় প্যারাতে উদ্দীপক ও মূলপাঠ্যের অথবা পাঠ্য ও উদ্দীপকের সম্পর্কগত আলোচনা করবে * চতুর্থ প্যারাতে সার্বিক বিশ্লেষণ করবে সেক্ষেত্রে উদ্দীপক, মূলপাঠ্য বিষয় ও পারিপার্শ্বিক জীবন ব্যবস্থার সাথে মিল রেখে তোমার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারো। এখানে প্রশ্নে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন, আলোচনা, যৌক্তিকতা নিরূপণ বা পাঠ্যের মূল সম্পর্ক ফুটে উঠেছে কি-না তার সত্যতা যাচাই করতে বলা হয়। এটি যেহেতু উচ্চতর দক্ষতামূলক সেক্ষেত্রে নিজের মতো করে বিষয়বস্তু আলোচনা করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে যা হাত ছাড়া করলে নম্বর কম পেতে পারো।
