আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে অবস্থিত অধিকাংশ হোটেল রেস্তোঁরায় পচা বাসি খাবার বিক্রি হচ্ছে। সেই সাথে হোটেলগুলোর পরিবেশও অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর।
জানা গেছে, উপজেলার আড়াইহাজার পৌর বাজার, গোপালদী বাজার, জাঙ্গালিয়া, উচিত্পুরা, কালিবাড়ী, নয়নাবাদ, বিশনন্দী ফেরিঘাট, রামচন্দ্রদী, মানিকপুর, চৈতনকান্দা, দয়াকান্দা, পুরিন্দা, পাঁচরুখী, বান্টি, ছনপাড়া, মারুয়াদীসহ বেশির ভাগ বাজারের হোটেল রেস্তোঁরায় ক্রেতাদের বাসি পচা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এই নিয়ে প্রতিদিনই হোটেল কর্মচারীদের সাথে ক্রেতাদের ঝগড়া হচ্ছে।
শুক্রবার ভরদুপুর। পেটে প্রচণ্ড ক্ষিদে। পাওয়ারলুম শ্রমিক নবী হোসেন আড়াইহাজারের গোপালদীবাজারের একটি হোটেলে ঢুকলেন। কি কি আছে? হোটেলের কর্মচারী জানালো, “গরুর মাংস ছাড়া কিছু নেই।” মাংস দিয়েই ভাত খেতে শুরু করলেন নবী। মাংস মুখে দিতেই কেমন যেন লাগলো। একটু বাসি বাসি মনে হলো। ভাল করে প্লেট নেড়ে চেড়ে আবার মাংসের টুকরা মুখে দিতেই বাসি গন্ধ স্পষ্ট টের পাওয়া গেল। “বাসি মাংস খাব না” বলতেই কর্মচারী বিষয়টি কাউন্টারে জানায়। কাউন্টারে বসা হোটেল ম্যানেজার দুঃখ প্রকাশ তো দূরের কথা, উল্টো নবী হোসেনকে দোষারোপ করতে শুরু করেন। বলেন, মাংস বাসি নয়, একদম ঠিক আছে। এরপর শুরু হয় বাকবিতণ্ডা, তর্কাতর্কি, এমনকি গালাগালিও। হোটেল ম্যানেজার জোর করে তার কাছ থেকে ভাত ও মাংসের দাম আদায় করে নেয়। এরপর নবী হোসেন ভাত না খেয়েই হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে হোটেলগুলোতে।
অভিযোগ রয়েছে, হোটেলগুলোতে নতুন রান্না করা মাছ, মাংসের তরকারির সাথে আগেরদিনের পচা, বাসি তরকারি মিলিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে হোটেল মালিক দুর্ব্যবহার করে।
এই ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স জানান, হোটেলে পচা ও বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কিছুদিন আগে গোপালদী বাজারে অবস্থিত নাজিম উদ্দিনের হোটেলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
