সমুদ্র দেখার ইচ্ছা ছিল বহুদিনের। তবে সময় ও সুযোগের অভাবে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। অবশেষে ডিসেম্বরে রওনা হলাম সাগর কন্যা পটুয়াখালী দেখার উদ্যেশ্যে। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত। কুয়াকাটা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সমুদ্র সৈকত, যেখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়। সাগরের পাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার লোভ যে বহুদিনের! সারারাত বাসে কাটিয়ে যখন ভোরে কুয়াকাটায় পা রাখলাম তখনই বুঝলাম এই শীতে পর্যটকদের ভিড় লেগেছে। সমুদ্রের জলে অবগাহন করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু আপনি যখন সেখানে নতুন তখন অবশ্যই প্রথমে একটি হোটেলে থাকার জায়গা ঠিক করবেন। সাগরের আশেপাশেই অগণিত হোটেল রয়েছে। তবে পর্যটনের মৌসুম হওয়ায় তারা স্বাভাবিকের চেয়ে ভাড়া একটু বেশি দাবি করতে পারে। আপনাকে দর কষাকষি করতে হতে পারে। আমি একটি থ্রি-স্টার হোটেলে উঠলাম। ব্যাগপত্র রেখে একটু ফ্রেশ হলাম। তারপর পাশের একটি হোটেলে নাস্তা সেরেই রওনা দিলাম সাগরের দিকে। আমার হোটেল থেকে সামান্য দূরেই কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। হাঁটতে হাঁটতেই রওনা দিলাম। যত কাছে এগুচ্ছিলাম ততই ঢেউয়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। সমুদ্রের পাশেই কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থানগুলোর তালিকা দেওয়া আছে। আমি একপলক সেগুলো দেখে নিলাম। তারপর ধীরে ধীরে পৌঁছে গেলাম সৈকতের কাছে। পা ভেজালাম জলে। এ এক অন্যরকম অনুভূতি! ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। দর্শনার্থী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এই সৈকতে ভাড়ায় মটরসাইকেল পাওয়া যাবে। আপনি সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তারা আপনাকে আমন্ত্রণ জানাবে কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য। ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকাতেই আপনি সেই সুযোগ পাবেন। রয়েছে ঘোড়ায় চড়ে বেড়ানোর সুযোগ। ৫০ টাকায় এই সুযোগ পাবেন।
কুয়াকাটার আশেপাশে বেশকিছু চর আছে। আপনি স্পিডবোটে এখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন সুন্দরবনের একটি অংশে। এছাড়াও যেতে পারেন গঙ্গামতির লেক, ফাতরার চর, সোনার চর ও কটকা। মাথাপিছু একটু ব্যয়বহুল হলেও বেশ আনন্দ দেবে আপনাকে। রয়েছে লাল কাঁকড়ার চর। দুপুরের পর আমি গিয়েছিলাম ঝাউবন দেখার জন্য। উদ্দেশ্য ছিল দুটি। এক, ঝাউবন দেখা। অল্প সময়েই সেখানে যাওয়া যায়। অটোভ্যানে যেতে মিনিট দশ-পনেরো লাগতে পারে। এই বনটি সরকার বনায়ন পরিকল্পনার অধীনে তৈরি করেছে। পিকনিক স্পট হিসেবেও স্থানটি বেশ জনপ্রিয়। দুই, এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায় ভালোভাবে। সাগরের বুকে থেকে কিভাবে সূর্য ডুবে যায় তা দেখতেই সেখানে যাওয়া। ছিলাম সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসা পর্যন্ত। সন্ধ্যার পর ফিরে এলাম সৈকতের পাড়ে। রাতের সমুদ্র যেন আলাদা। ঢেউগুলো যেন আরো কাছে এসে আঁছড়ে পড়ছে। এবার কেনাকাটায় মনোযোগ দিলাম। আশেপাশে বেশকিছু দোকান আছে, যেখান থেকে আপনি প্রয়োজনীয় ও সৌখিন জিনিসপত্র কিনতে পারবেন। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কিনে হোটেলে ফিরে এলাম। আমি ৩ দিন কুয়াকাটায় ছিলাম। সৈকতের পাশেই রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির এবং তার থেকে সামান্য দূরেই রয়েছে বৌদ্ধমন্দির। গৌতম বুদ্ধের বিশাল মূর্তি দেখতে পাবেন। আমি ৩ দিন সেখানে ছিলাম। পরবর্তী ২ দিনে আমি রাখাইন পল্লী, রূপালি দ্বীপ, মিষ্টি পানির দ্বীপ, কুয়াকাটার কুয়া, বার্মিজ মাকের্ট দেখলাম। দেখার সাধ থাকলেও হাতে আর সময় ছিল না। সাগরের পাড়ে আরো কিছুটা সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল। তবে ফিরতে হলো। কিছু অদেখা স্থান থেকে গেল। আর একবার যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ফিরে এলাম।
ঘোষণা
প্রিয় পাঠক, আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া মজার/অদ্ভুত ঘটনা, উত্সব কিংবা ভ্রমণকাহিনি লিখে পাঠাতে পারেন আমাদের। এছাড়া আপনার দেখা ভালো ও ব্যতিক্রম কোনো উদ্যোগের কথাও আমাদের জানাতে পারেন। সর্বোচ্চ ৫০০ শব্দের মধ্যে লিখে ছবিসহ পাঠাতে পারেন নিচের ঠিকানায়।
লেখার সঙ্গে নাম, ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর দিতে ভুলবেন না!
ঠিকানা—
ভিন্নচোখে, দৈনিক ইত্তেফাক
৪০ কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
অথবা
